ফনেটিক ইউনিজয়
ভোলা জেলা
দেশের গল্প শোনো

‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’খ্যাত বরিশাল বিভাগের এক দ্বীপ জেলা ভোলা। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও প্রমত্ত মেঘনার কোলজুড়ে জেলাটির অবস্থান। শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল, জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবী কমরেড নলিনী দাস রায়সহ অনেক গুণীজনের জন্ম এ সুসজ্জিত দ্বীপ জেলাটিতে। দেশের সিংহভাগ ইলিশের চাহিদা মেটাতে রুপালি ইলিশের বিরাট এক ক্ষেত্রের নাম ভোলা জেলা। দেশের প্রায় অর্ধেক গ্যাস উত্তোলন করা হয় এখান থেকে। মহিষের দুধের টক দইয়ের জন্য সারা দেশে জেলাটির বিশেষ খ্যাতি আছে। অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সারা বছর পর্যটকরা এখানে ভ্রমণ করেন। বৈচিত্র্যময় দর্শনীয় স্থান চর কুকরিমুকরিকে দ্বিতীয় সুন্দরবন বলা হয়। শান্ত নিবিড় দ্বীপ মনপুরা, শাহবাজপুর মেঘনা পর্যটন কেন্দ্র, তাড়ূয়া সমুদ্রসৈকত ভোলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। ভোলা শহর ঢাকা থেকে নদীপথে ১৯৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে ভোলার জন্য নৌপথের বিকল্প নেই। সাধারণ মানুষ নৌকাকে নাম দিয়েছে শান্তির বাহন। পাঁচটি পৌরসভা ও সাতটি উপজেলা (ভোলা সদর, তজুমদ্দিন, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, মনপুরা, লালমোহন, চরফ্যাশন) নিয়ে ভোলা জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ভোলা খুব সমৃদ্ধ না হলেও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, মাছ সংগ্রহ, শুঁটকি উৎপাদন ইত্যাদি পেশার মানুষের সম্মিলন ঘটেছে এখানে। ভোলার মানুষের প্রধান দুর্দশার কারণ হলো সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস! মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক আঘাতে জেলার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, নদীভাঙনে ছাড়তে হয় অনেকের পৈতৃক ভিটামাটি। এখানকার মানুষগুলো প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে বাঁচে।

Disconnect