ফনেটিক ইউনিজয়
বিজ্ঞান
মঙ্গল গ্রহ

মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মতো আপন হাতের মুঠোয় এনে বিশ্বজগৎ দেখার নেশায় মানুষ ছুটে চলে মহাকাশ থেকে মহাকাশে। সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহের নাম মঙ্গল গ্রহ। লাল মাটি আর লাল আকাশের কারণে ‘লাল গ্রহ’ নামেও ডাকা হয় গ্রহটিকে। নানা খাদ, শিলা, উঁচু-নিচু ভূমি, মরুভূমি, পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, বরফ আর ঋতুচক্রের দিক থেকে মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর সমগোত্রীয়। এমনকি মঙ্গলের আকাশে পৃথিবীর মতো উল্কা দেখা গেছে। মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এমন ধারণা থেকে মানুষ আরও দুর্বারগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সৌরজগতের যেমন পৃথিবী একটি বাসযোগ্য গ্রহ, তেমনি মঙ্গলেও প্রাণের বসবাস থাকতে পারে। কিংবা দূরভবিষ্যতে মঙ্গল হতে পারে পৃথিবীর মানুষের জন্য বিকল্প বাসস্থান। মঙ্গলের ব্যাসার্ধ পৃথিবীর অর্ধেক, ভর এক-দশমাংশ। আয়রন ও অক্সাইড দ্বারা গঠিত মঙ্গলের মাটি ট্যালকম পাউডারের মতো। মঙ্গলের কেন্দ্রটি লোহা ও সালফার দ্বারা গঠিত। এখানে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ কম থাকায় তরল পানি থাকা সম্ভব নয়, অথচ বরফ রয়েছে। ১৯৬৪ সালে মঙ্গলের আকাশে উড়তে সমর্থ হয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘মেরিনার ৪’। ১৯৭১ সালে মঙ্গলের মাটিতে প্রথম অবতরণ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘মার্স ২’ ও ‘মার্স ৩’ নভোযান। চীন, জাপানও মঙ্গলে তাদের নভোযান পাঠিয়েছে। নভোযানগুলো যে ছবি তুলে পাঠাচ্ছে, তা দেখে আমাদের কৌতূহল আরও বেড়ে যাচ্ছে, অথচ অনেক প্রশ্নের যথার্থ জবাব মিলছে না। গবেষণা সংস্থাগুলো মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। চাঁদে মানুষ পৌঁছানো যেমন পৃথিবীর ইতিহাস ছিল, তেমনি মঙ্গলে মানুষ পৌঁছানোর মতো ইতিহাসের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছে। হয়তো ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষ মঙ্গলে পৌঁছতে পারবে। তখন মঙ্গলের নানা দিক উন্মোচিত হবে। আমরা মঙ্গল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারব।

Disconnect