ফনেটিক ইউনিজয়
পটুয়াখালী জেলা
দেশের গল্প শোনো

পটুয়াখালীর অন্য পরিচয় ‘সাগরকন্যা’। সমুদ্র বিধৌত এ জেলাটি মূলত সুন্দরবন কেটে জনবসতি গড়ে ওঠা একটি জনপদ। পায়রা বন্দর, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জন্য জেলাটির খ্যাতি বিশ্বজুড়ে। লোকশ্রুতি আছে, দেবেন্দ্র নাথ দত্তের পুরনো কবিতা ‘পাতুয়ার খাল’ থেকে ‘পটুয়াখালী’ নামকরণ। সতেরো শতকের কথা, পর্তুগিজ জলদস্যুদের হামলা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও ধ্বংসলীলায় বাকলা-চন্দ্রদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। তখন বর্তমান পটুয়াখালী জেলা শহর ছিল সুন্দরবন ও উত্তর দিকে ছিল লোকালয়। লোহালিয়া ও পায়রা নদীর ভাড়ানী খাল দিয়ে পর্তুগিজরা আসত বলে স্থানীয়দের মুখে এই খালের নামকরণ হয় ‘পতুয়ার খাল’। ১৮১২ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে পটুয়াখালীকে নিয়ে গঠন করা হয় মির্জাগঞ্জ থানা। ব্রজ মোহন দত্ত পটুয়াখালীকে নতুন মহকুমা করার প্রস্তাব করলে ১৮৬৭ সালে কলকাতা গেজেটে মহকুমা ঘোষণা করা হয়।  ১৯৬৯ সালে পটুয়াখালীকে জেলা শহরে উন্নীত করা হয়। পটুয়াখালী সদর, বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দুমকি ও রাঙ্গাবালী- এই আটটি উপজেলা নিয়ে জেলাটি গঠিত। আম, কাঁঠাল, জাম, তরমুজ, কলা, পেঁপে, লিচু আর হরেক রকমের ফল উৎপাদন হয় এখানে। পটুয়াখালী জেলার ২ শতাংশ বনাঞ্চলজুড়ে রয়েছে কেওড়া, গেওয়া, গরান, গোলপাতা গাছ। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি দেশীয় মাছের বিরাট প্রাকৃতিক সম্ভারে পূর্ণ জেলাটি। মৃৎ শিল্প, পাট শিল্প, বিড়ি শিল্প, কুটির শিল্প ও গাছের ব্যবসার জন্য খ্যাতি আছে। এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ভাষাসৈনিক ডাক্তার কামরুন নেছা,  ভাষাসৈনিক এএন আনোয়ারা বেগম, ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট জেবুন নেছার মতো কত গুণীজন। দৃষ্টিনন্দন স্থানের মধ্যে কুয়াকাটা, পায়রা বন্দর, সোনার চর, রাখাইন পল্লী, বৌদ্ধ বিহার, কানাই বলাই দীঘি, কাজলার চর উল্লেখযোগ্য।

Disconnect