ফনেটিক ইউনিজয়
ফেদারিকো গার্সিয়া লোরকার তিনটি কবিতা
ভাষান্তর : অশোক কর

চাঁদ ভেসে যায়
চাঁদ যখন ভেসে যায়
চার্চের ঘণ্টাধ্বনি ম্রিয়মাণ হয়ে আসে
আর অতি বাড়ন্ত ঝোপঝাড়ে ঢাকা
রাস্তাটা চোখে পড়ে।

চাঁদ যখন ভেসে যায়
পৃথিবী ঢেকে যায় জলে
আর হৃদয় অনুভব করে এই
অসীম শূন্যে ছোট্ট এক দ্বীপ।

পূর্ণিমা চাঁদের আলোয়
কমলা মুখে তোলে না কেউ।
খাবার উপযুক্ত বলে মনে হয়
সবুজ ফল, হিমায়িত।

চাঁদ যখন ভেসে যায়
সাদৃশ্য শতমুখ সাথে করে নিয়ে,
রুপার তৈরি মুদ্রাগুলো
মনঃকষ্টে ভেঙে পড়ে পকেটের মাঝে।

‘মুন সং’ কাব্যগ্রন্থ থেকে


হুয়ান র‌্যামন হিমিনেজ
অসীম শুভ্রতার ভিতর
নিয়েছিল তুষার, মসলা-উদ্ভিদ, আর নুন
কল্পগাথায়, আবার ফেলে রেখেও গেল।

শুভ্র-সাদা রঙ হাঁটছে
একটা ঘুঘুপাখির নরম পালকে তৈরি
নিঃশব্দ কার্পেটের ওপর।

না চোখে, না চোখের দৃষ্টিতে
স্বপ্নাপ্লুত, ঢুকে গেল স্বপ্নের ভিতর, নিশ্চুপ
অথচ থরথর কাঁপছে অন্তস্তল!

অসীম শুভ্রতার ভিতরে
কল্পনা রেখে গেল তার
কেমন নিষ্কলুষ, কেমন গভীর ক্ষত!

অসীম শুভ্রতার ভিতরে
তুষার। মসলা-উদ্ভিদ। নুন।

‘থ্রি পোর্ট্রেট উইথ শেডিং’ কাব্যগ্রন্থ থেকে


হেঁটে ঘরে ফেরা
আততায়ী আকাশের হাতে খুন হয়ে-,
কাব্যবিন্যাসের মাঝখান থেকে, ক্রমশ সরে যাচ্ছে সরীসৃপের দিকে
আর কাব্যিকতা-, নিজেই এগিয়ে চলছে স্ফটিকের দিকে,
আমার চুলগুলোকে দেব ঝরে পড়তে অবিন্যস্ত!

বৃক্ষের সাথে, যে কেটে ফেলা বাহুগুলো নিয়ে, গান গায় না আর,
আর বালকের, ডিমের মতো শুভ্র যার মুখ।

ছোট্ট সেসব জন্তুদের সাথে, মস্তক বিচূর্ণ যাদের,
আর জীর্ণ জলধারা, হেঁটে চলে যায় শুকনো পায়ে।

সেসব জিনিসগুলোর সাথে, যাদের শুধু বোবা-কালা অবসাদ,
আর যে প্রজাপতি, ডুবে মরল কালির দোয়াতে।

আমার স্খলিত মুখ, প্রতিদিন যা কেবলি বদলায়, আজ
খুন হলো আকাশের হাতে

‘পোয়েট ইন নিউইয়র্ক’ গ্রন্থ থেকে

Disconnect