ফনেটিক ইউনিজয়
কাজী জহিরুল ইসলামের পাঁচটি কবিতা

পরগাছা
ছোটো এক গাছ হামাগুড়ি দেয়, নেমে আসে ওর ডাল থেকে।
অন্যটি তাকে কোলে তুলে নেয়
দাঁড়িয়ে ছিল সে কাল থেকে।

নতুন ডালে বসে পক্ষিদের কানে বাজায় সে ধর্মশ্লোক।
ফুল ও পাতাদের আদরে কাছে টানে,
বাজছে এপিটাফ বিহঙ্গের গানে, বৃক্ষসভাটিতে শোক।

মেন্যু
দু’টো চুমু, তিন টুকরো আদর
আর দু’চামচ প্রেম। খাবা, না খাবা না?
ঝটপট বলে ফেলো, ও মেয়ে, শাবানা।

এর চেয়ে ভালো মেন্যু?
ও রেস্তোরাঁয়? উঁম হুঁম, পাবা না।
গ্যারান্টি। একবার খেয়ে দেখো,

নিশ্চিত। আর কোথাও যাবা না।

অশ্বনদী
তটরেখায় পুরুষ, মাথা তোলে পিপাসার্ত ঘোড়া
মেয়েটি তখন আহ্লাদে  খুলে দেয় নদী।
এভাবেই যদি
অশ্বনদীকাল ছিল ওরা...

এরপর চলে ছেঁড়া-খোঁড়া, চলতেই থাকে,
শান্ত নদীটির বাঁকে বাঁকে
অন্ধকারে নেমে আসে সরীসৃপ,
যতো চোর, ছ্যাঁচ্চোড়, খুনি, এখানেই এসে থামে
অনাকাক্সিক্ষত পলি, শহরের বর্জ্য, আবর্জনা
গড়িয়ে গড়িয়ে নামে,

ছোট্ট নদীটির প্রবহমান সুখ-মূর্ছনা
ঠেলে একদিন জেগে ওঠে প্রগাঢ় কষ্টের দ্বীপ।

অ্যালবাম
ব্রহ্মপুত্র পাশে শুয়ে আছে, মৈমনসিং বলে, খেলবাম।
আজ তুমি নেই, সে-খেলাও নেই
বালিশের নিচে অ্যালবাম।

ভ্যাপসা গরম, কচি পাটক্ষেত, তোমার-আমার দুপুর
সোনালি তন্তু, বিবর্ণ দিন
উজানের গাঙে রাত্রি-বিরাতে লোভের নৌকাটি, উপুড়।

কালচারাল এক্সচেঞ্জ
তোমার চুল লাল, আমারটা কালো
প্রকৃতির এ বৈষম্যে কেউ কি তাকালো?

গলছে কালো লাল-উত্তাপে
সভ্যতার এ-স্রোতধারা চলছে বয়ে, সম্পর্কের পাপে।

চোখ বুজলেই তোমার ছোঁয়া, উইদিন মাই রেঞ্জ
অন্ধকারে তোমার-আমার কালচারাল এক্সচেঞ্জ।

Disconnect