ফনেটিক ইউনিজয়
গাছ পরিচিতি
লবঙ্গ
মোকারম হোসেন

সুগন্ধি মসলা হিসেবে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নামের শেষাংশই গাছটির সুগন্ধের কথা নিশ্চিত করেছে। খাদ্যদ্রব্য রান্না ছাড়াও এই মসলার নানা ব্যবহার লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে কাশি হলে লবঙ্গ পুড়িয়ে থেতো করে মধু সহযোগে খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়। ব্যবহারের ক্ষেত্রে আস্ত অথবা গুঁড়োÑদুভাবেই ব্যবহার করা যায়। এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোয় এই মসলা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। মেক্সিকোসহ দক্ষিণ আমেরিকায়ও সীমিতভাবে এই মসলা ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। তবে চীন ও জাপানে ধূপ হিসেবে লবঙ্গ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় ক্রেটেক নামক সিগারেটে সুগন্ধি হিসেবে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার ২০০৫ সালের তথ্যমতে ইন্দোনেশিয়ায় পৃথিবীর ৮০ শতাংশ লবঙ্গ উৎপাদন হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মাদাগাস্কার ও তাঞ্জানিয়া।
লবঙ্গ সুগন্ধি হওয়ার প্রধান কারণ ইউজেনল নামের একপ্রকার যৌগ। এটি লবঙ্গ থেকে প্রাপ্ত তেলের মূল উপাদান। এই তেলের প্রায় ৭২ থেকে ৯০ শতাংশজুড়ে ইউজেনল বিদ্যমান। এ যৌগটি জীবাণু ও ব্যথানাশক।
আমাদের দেশে লবঙ্গ চাষ ততটা বিস্তৃত নয়। বিক্ষিপ্তভাবে সারা দেশেই দেখা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাড়ির আঙিনা ও মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে আছে।
বহুবর্ষজীবী ছোট আকারের চিরসবুজ বৃক্ষ। সাধারণত ৮ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ঊর্ধ্বমুখী ডালপালা। পাতা হালকা সবুজ বর্ণের, চটকালে সুগন্ধ পাওয়া যায়। ফুল লালচে বর্ণের। ফুলের বোঁটা গোলাকার, অফোটা ফুল চারটি দ-াকার ক্যালিক্সে আবৃত থাকে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ফুল তুলে এনে শুকানো হয়। এটাই লবঙ্গ। কাটিং, গ্রাফটিং ও গুটি কলম করে চারা করা হয়। আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, জানজিবার, ইন্দোনেশিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মরিশাস ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোয় সহজলভ্য। বৈজ্ঞানিক নাম Syzygium aromaticum। পরিবার Myrtaceae।

Disconnect