ফনেটিক ইউনিজয়
‘১০০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’
নিজস্ব প্রতিবেদক
মো. শফিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী
----

‘সব স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিলেও বর্তমানে সংকটের মধ্য দিয়ে পার হতে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। এমনকি দিন দিন সংকটগুলো ক্রমান্বয়ে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এ কারণে ১০০ বছরেও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’- ৪ মে বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের ক্যাডার সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ও হামস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুর রহমান।
অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে ও বিসিএস ৩৬তম ব্যাচে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রাকিবুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ন্যায়ের পক্ষের সব আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করছে। আশা করি, আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’ এ সময় তিনি ৩৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশসেবায় কাজ করার আহ্বান জানান।
রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের প্রায় সব কয়টি গৌরবময় ইতিহাসের নেতৃত্বের সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। এখানকার সূর্য সন্তানদের আত্মত্যাগে সূচিত হয় নানা ইতিহাস। আত্মত্যাগের সাথে সাথে এ শিক্ষায়তনের মেধাবী সন্তানেরা জনসেবার দায়িত্ব পালনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের মতো ৩৬তম বিসিএসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যোগ্য নেতৃত্বে এ দেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সুপারিশপ্রাপ্ত বিসিএস ক্যাডারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবন হচ্ছে পরবর্তী জীবনের বীজ বপনের সময় এবং এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুপ্রেরণা জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভূমিকা রেখে আসছে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তোমাদের অনেক ক্ষমতা, মর্যাদা ও দায়িত্ব আসবে যা তোমরা মূল্যবোধের মাধ্যমে ব্যবহার করবে এবং মানুষের মঙ্গলের জন্য সবসময় কাজ করবে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে আগামীতে এ সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য।

Disconnect