ফনেটিক ইউনিজয়
জাতীয় সংসদ নির্বাচন
চলছে ডিজিটাল প্রচারণা
এম ডি হোসাইন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও কার্যত থেমে নেই কোনো পক্ষ। নামে-বেনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল প্রচারণা। বিশেষ করে ফেসবুকে চলছে পাল্টাপাল্টি নানা অপপ্রচার। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন ডিজিটাল মাধ্যমে। এজন্য আওয়ামী লীগ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগও করেছে। তবে ইসি জানিয়েছে এ বিষয়ে তাদের করার কিছুই নেই। আবার টিভি চ্যানেলে চলছে একচেটিয়া সরকারি প্রচারণা।
জানা যায়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার বা প্রচারণার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম-কানুন না থাকায় নিজের ইচ্ছামতো প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে নানাভাবে। কারণ, সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির ১২ ধারায় বলা হয়েছে- ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা উহার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করিতে পারিবেন না।’ সে হিসেবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনের মূল প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বরের পর থেকে বা ভোটগ্রহণের ২১ দিন আগে থেকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে বহু আগেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ডিজিটাল প্রচারণার বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্ট কিছু বলা নেই। ফলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে ভোটগ্রহণের ২১ দিন আগে কোনোভাবেই প্রচারণা করা যাবে না। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রচার উপকরণ অপসারণের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। কমিশন খোঁজ নিয়েছে, প্রায় শতভাগ উপকরণ সরানো হয়েছে। এরপরও কেউ না সরালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানের বিষয়ে তিনি বলেন, কমিশনের বৈঠকে তারেক জিয়ার ভিডিও কনফারেন্সের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে ইসি’র এই মুহূর্তে করার কিছু নেই বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনীতির প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা তুমুলভাবে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করেছে। অথচ আচরণবিধির ১১ ধারায় বলা আছে- ‘নির্বাচনী প্রচারকালে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করিয়া বক্তব্য প্রদান বা কোনো ধরনের তিক্ত (উস্কানিমূলক বা মানহানিকর) কিংবা লিঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবেন না।’
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় কাভার ফটোই করা হয়েছে শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে আর সেখানে লেখা রয়েছে ‘নৌকা জনগণের মার্কা- জননেত্রী শেখ হাসিনা’। এ পেজটিতেই একটি ইভেন্ট পেজ খোলা হয়েছে, যার শিরোনাম ‘৩০ ডিসেম্বর সারাদিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় উল্লেখ করে ডিজিটাল প্রচার চালানো হচ্ছে এ পেজ থেকে। এছাড়া বিটিভিসহ প্রতিটা বেসরকারি চ্যানেলে চলছে একচেটিয়া উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচারণা।
তবে বিএনপি’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় কাভার ফটো হিসেবে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চেয়ে একটি ব্যানার রয়েছে। তারপর ২০০৫ সালে একটি অনুষ্ঠানে দেয়া বিএনপি’র শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের একটি বক্তব্য রয়েছে। সাথে রয়েছে ধানের শীষ হাতে তারেক রহমানের একটি ছবি। এছাড়া পেজটিতে বিএনপি’র নির্বাচন সম্পর্কিত নানা ব্রিফিংয়ের ছবি ও বক্তব্য রয়েছে।
আবার নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন নামে খোলা ফেসবুক পাতায়। ‘রুখে দাও ষড়যন্ত্র’ ফেসবুক পাতায় বিএনপি-জামায়াতের ২০০১-২০০৬ সাল কেমন ছিল সে বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকার পুরনো খবর শেয়ার করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের হরতাল অবরোধের বিভিন্ন ছবি ওই পাতায় পোস্ট করা হয়েছে।
এছাড়া ‘ওয়াচম্যান বিডি’ নামক একটি ফেসবুক পাতায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরে ‘লুটপাট সংক্রান্ত’ কয়েকটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক ফেসবুক পাতায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিছু পাতায় অপবাদের পাশাপাশি নিজের দলের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্পষ্ট করে বলছি যে, আমাদের কার্যক্রমের প্রতিফলন আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় রয়েছে। আমরা নেতিবাচক প্রচারণায় বিশ্বাস করি না। তবে বিএনপি-জামায়াতের অপকর্ম জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেয়া আমাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব। তারা যে আগুন সন্ত্রাস করেছে, এগুলো না দেখালে জনগণ বুঝবে না-বিএনপি-জামায়াত দেশের কত সম্পদ ধ্বংস করেছে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান একজন দণ্ডিত অপরাধী, তিনি কোনোভাবেই নির্বাচনী কাজে যুক্ত হতে পারেন না।
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্র ভেঙে ফেলেছে। এখন তারা সাধারণ মানুষের সমর্থন হারিয়ে ভোটের মাঠে পাগল হয়ে ঘুরছে। ফলে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে বেনামে কোনো প্রচারণার সাথে বিএনপি’র কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান তিনি।

Disconnect