‘সন্তান বিক্রির পর ফিরে পেতে মামলা’, বিচারকের সামনে আত্মহত্যা চেষ্টা

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে আদালত চলাকালীন বিচারকের সামনে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন পারভিন নামের এক নারী। ওই সময় চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে ওই নারীর হাত থেকে কীটনাশকের বোতল নিয়ে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আজ রবিবার দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) আদালতের বিচারক রুম্পা ঘোষের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পারভিন বেগম বানারীপাড়া উপজেলার নলশ্রী গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী।

এজলাসে উপস্থিত থাকা একাধিক আইনজীবী দাবি করেন, বাদী পারভিন একজন অর্থলোভী নারী। এর আগে তিনি টাকার লোভে নিজের দুই সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে তাঁর আরেকটি একটা পুত্রসন্তান হয়। আব্দুল্লাহ নামের ওই সন্তানকে বিক্রির আহ্বান জানালে একই উপজেলার বেতাল গ্রামের নিঃসন্তান গাফফার ফরাজির স্ত্রী নাছরিন আক্তার রাজি হন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন নাছরিন এক লাখ টাকা দিয়ে রোয়েদাদ নামা তৈরি করে নোটারি পাবলিক আদালতের মাধ্যমে পারভিনের সন্তান জাসান আব্দুল্লাহকে কিনে নেন। কিছুদিন পর নাছরিনের কাছে আরো টাকা দাবি করেন পারভিন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পারভিন তার সন্তান নেওয়ার দাবি জানান।

পরবর্তীতে পারভিনের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি বানারীপাড়া থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। পুলিশ উভয়পক্ষের কথা শুনে পারভিনকে সন্তান বিক্রি করে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পারভিন টাকা না দিয়েই সন্তান দাবি করে।

গত ২৪ জুলাই সন্তান জোর করে রেখে দেওয়ার অভিযোগ করে পারভিন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত বিবাদী নাছরিনকে সন্তানসহ আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেন।

আজ রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ধার্য্য তারিখে নাছরিন আদালতে উপস্থিত হয়ে অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির-১ এর মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সময় করা রোয়েদাদনামা দাখিল করেন।

বাদী পারভিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বাক্ষর করার কথা অস্বীকার করেন। আদালতকে প্রভাবিত করার প্রচেষ্টায় পরিকল্পিতভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দাঁড়িয়ে কোমড়ে গুজিয়ে রাখা কীটনাশকের বোতল বের করে পান করতে উদ্যত হন।

ঘটনা দেখে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রূম্পা ঘোষ নিজেই হাত উচিয়ে বিষপান করতে বাধা দেন। এক পর্যায়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে পারভিনের হাত থেকে কীটনাশকের বোতল ছিনিয়ে নেন। পারভিনকে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে শুনানি মুলতবি করে নতুন করে দিন ধার্য্য করে দেন।

এ বিষয়ে বিবাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আদালতে ওপেন এজলাসে বিষপান করার চেষ্টার ঘটনা এই প্রথম। এটা নিঃসন্দেহে আদালতকে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করার পরিকল্পিত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য পারভিনের কঠিন বিচার হওয়া উচিত। যদি দুর্ঘটনা ঘটত তাহলে ম্যাজিস্ট্রেটসহ আদালত সংশ্লিষ্টদের বিপাকে পড়তে হত। ম্যাজিস্ট্রেটের সুদক্ষতায় একটা কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা হয়েছে।’

মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh