ফনেটিক ইউনিজয়
সুবর্ণচরে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা
সুমন ভৌমিক, নোয়াখালী

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জুবলী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ও সরকারি বিভিন্ন সড়কে লাগানো সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় উপকারভোগীরা জানান, গত তিন-চার মাসে রাতের অন্ধকারে এসব স্থান থেকে ঝাউ, কড়ই, নাটাইগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় অর্ধশত মূল্যবান গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করারও সাহস পায় না। এ পরিস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা ক্রমে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বন বিভাগের হাবিবিয়া রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বনায়নের আওতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দুর্যোগ ঠেকাতে বিগত ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ইউনিয়নের বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন সড়কের তিন কিলোমিটার এলাকায় গাছ লাগানো হয়। এখানে ঝাউ, কড়ই, নাটাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েক হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। গাছগুলো দেখভাল করার জন্য উপকারভোগীদের মাধ্যমে একধরনের কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বন বিভাগের লোকজন মাঝেমধ্যে দেখে আসেন।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, চর জুবলী ইউনিয়নের একরাম মার্কেট-সংলগ্ন ২ নম্বর স্লুইসগেট এলাকার বেড়িবাঁধ ও পাঙ্খারবাজার-একরাম চৌধুরী মার্কেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কেটে নেওয়া গাছের গোড়া পড়ে আছে। এর মধ্যে ২ নম্বর স্লুইস বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে ১৫-২০টি গাছের গোড়া দেখা যায়।
সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ চক্রটি গাছ কেটে রাতেই নিকটবর্তী কোনো স মিলে নিয়ে কাঠ করে ফেলে কিংবা অন্যত্র পাচার করে দেয়, যাতে সহজে বিষয়টি ধরা না পড়ে। আবার ধরা পড়লেও পেছনে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা থাকায় তা বেশিদূর এগোতে পারে না। ফলে অনেক সময় বন বিভাগ কর্তৃক হাতে নাতে ধরা পড়লেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
বন বিভাগের সুবর্ণচর উপজেলার হাবিবিয়া রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম দুর্বৃত্তরা গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে একরাম বাজার এলাকা থেকে ১৬ টুকরা গাছ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। কারা সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Disconnect