ফনেটিক ইউনিজয়
রংপুরে সড়ক বেহাল
মিজানুর রহমান নাসিম, রংপুর

‘রঙ্গেরসে ভরপুর, এরই নাম রংপুর’ শহর বর্তমানে খানাখন্দ ও ধুলাবালুর শহরে পরিণত হয়েছে। রংপুর শহরের সব পাড়া-মহল্লা, অলিগলির রাস্তার বেহাল। দীর্ঘদিন থেকে এসব রাস্তা কার্যত পরিত্যক্ত। কিন্তু নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। বিভাগীয় শহরে উন্নীত হওয়ার পর শুধু শহরের মূল সড়ক ও বাইপাস  হাইওয়েটি চার লেনে উন্নীত করা হলেও শহরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোড ও গলিপথ যানবাহন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর এসব সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। রংপুর শহরের লালকুঠি সড়কটি যেকোনো বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে অসংখ্য রোগী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। এই রোডের পাশে রয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একটি মাধ্যমিক স্কুল, দুটি কলেজিয়েট স্কুল, ম্যাজিস্ট্রেট কোয়ার্টার, একটি ক্লিনিক, ডক্টরস চেম্বার, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও একটি আধুনিক শপিং মল। সড়কটির মাথায় রয়েছে চার রাস্তার মোড়। অথচ লালকুঠি মোড় থেকে ধাপ মসজিদ মোড় লিংক রোডের এই রাস্তাটি এক যুগেরও বেশি সময় আগে থেকে চলাচলের অনুপযুক্ত। ধুলাভর্তি খোয়া ওঠা রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি; শুকনো মৌসুমে পাশ দিয়ে সাইকেল গেলেও ধুলাবালু থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল চাপতে হয়। আর তার পাশে রয়েছে ঢাকনাবিহীন ড্রেন। সেই ড্রেন উপচে পড়ছে পলিথিনসহ প্রতিদিনের ফেলা ময়লায়। ড্রেনের পাশে রাস্তাজুড়ে ময়লার ছড়ানো-ছিটানো স্তূপ, যা পচে রাস্তাটি ভয়ানক দুর্গন্ধময়। বর্ষায় ড্রেনের ময়লাপানি উপচে পড়ে সড়কে। ফলে উভয় মৌসুমে রোগীসহ নানা পথচারী বিশেষ করে কয়েক শ শিক্ষার্থীকে পড়তে হয় বিপাকে।
একই কথা প্রযোজ্য নগরের কেরাণীপাড়া, মুন্সীপাড়া, মূলাটোল, পাশারীপাড়া বা কটকীপাড়া হয়ে বাস টার্মিনাল রোড বা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লিংক পয়েন্ট, নগরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক সড়ক বেতপট্টি হয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড়, ঢাকা বাসস্ট্যান্ড রোডসহ শহরের সব অলিগলি মহল্লা থেকে জালের মতো ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন এসব সড়কে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারীরা। নগরের রাস্তাঘাটের এমন বেহালে নগরবাসী ক্ষুব্ধ। সড়ক সংস্কারের দাবি জানাতে গেলে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দের কথা। বর্তমান সিটি করপোরেশন মেয়র রাস্তাঘাট সংস্কারসহ নগর উন্নয়নের আশার বাণী শোনালেও অবস্থাদৃষ্টে সেই আশ্বাসবাক্যে এখন আর কারও আস্থা নেই। নগরবাসীর একটাই প্রশ্ন, উন্নয়ন না হলে শুধু শুধু সিটি করপোরেশন করে লাভ কী?
এ প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে কেরাণীপাড়ার বাসিন্দা কলেজশিক্ষক রাফিউর রহমান রাফু বলেন, মহানগরীতে উন্নীত হওয়ার পর নগরবাসীর কর বেড়েছে কিন্তু নাগরিক সুবিধা বাড়েনি। তাহলে সিটি করপোরেশনের তকমা কি শুধু বর্ধিত কর আদায় করার জন্য?

Disconnect