ফনেটিক ইউনিজয়
হাওর রক্ষায় রাবার ড্যামের দাবি
জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, সুনামগঞ্জ

হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জের অর্থনীতির মূল চাবিকাটি হলো মৎস্য, পাথর ও ধান। এই নিয়েই সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা। বছরের ছয় মাস বোরো ফসল চাষাবাদ হয়, কিন্তু প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুকুরচুরির কারণে হাওরের বাঁধ ভেঙে যায়। ক্ষতি হয় হাওরবাসীর কষ্টের ফসল। স্থানীয়দের মতে, বোরো ফসল রক্ষায় ৪৬টি হাওরের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ নদী, খাল ও ক্লোজার এলাকায় রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রয়োজন।
বোরো ধান উৎপাদনে শিলাবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, অনাবৃষ্টিও ক্ষতি করে। কিন্তু রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে ফসল রক্ষায় ব্যাপক উপকার পাওয়ায় আরও রাবার ড্যাম নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছে জেলার সচেতন মহল। রাবার ড্যাম নির্মাণ হলে জেলার হাওরগুলোতে বোরো ফসল প্রতিবছর আগাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে। একেই সঙ্গে রাবার ড্যাম এলাকায় পানি আটকে রেখে চাষাবাদের কাজে লাগোনো যাবে। আর প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাওরের বাঁধ নির্মাণের নামে পুকুরচুরিও বন্ধ হবে এবং সরকার বাঁধ রক্ষায় কোটি কোটি টাকা খরচের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার বোরো হাওর রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ নদী, খাল ও ক্লোজার এলাকায় ১৫টি রাবার ড্যাম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে এলজিইডি। হাওরপারের কৃষকেরা বলেন, প্রতিবছর ফসল রক্ষার জন্য হাওরের বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুকুরচুরির কারণে ফসলে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে হয়। মাঝে মাঝেই সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। রাবার ড্যাম বসানো হলে হাওরবেষ্টিত জেলার বৃহত্তর হাওরগুলোর ধান ফসলহানি থেকে রক্ষা পাবে। তাই নির্দিষ্ট কিছু স্থান চিহ্নিত করে সেখানে  রাবার ড্যাম স্থাপনের জন্য আমরা তালিকা তৈরি করেছি, এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করে।’

Disconnect