ফনেটিক ইউনিজয়
বিলাতি ধনিয়া চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন পাহাড়িরা
মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙামাটি

বিলাতি ধনিয়াপাতা চাষ করে পাহাড়ের জুমিয়া নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তাই ছোট্ট আঙিনা থেকে শুরু করে যেখানে একটু জমি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ধনিয়ার চাষ করা হচ্ছে। বিলাতি এ ধনিয়া পাতাকে চাকমা ভাষার ‘ধইন্যা ফাতা’, আর মারমা ভাষায় ‘বহক’ বলা হয়। রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, রাজস্থলী ও কাউখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিলাতি ধনিয়াপাতার চাষ এবার ভালো হয়েছে।
জনশ্রুতি রয়েছে এই বীজ বিলেত থেকে এসেছে, তাই একে সবাই বিলেতি ধনিয়া বলে থাকে। আমাদের দেশীয় প্রজাতির ধনিয়ার স্বাদ বেশি হলেও তা বছরের তিন থেকে চার মাস পাওয়া যায়। মাছ ও সবজি-জাতীয় তরকারিতে বছরের বাকি সময় সচেতন গৃহিণীরা বিলেতি ধনিয়াপাতা ব্যবহার করে থাকেন।
সারা দেশেই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া এই জাতের মসলার উপযোগী হওয়ায় তিন পার্বত্য জেলাতেই এর ব্যাপক ফলন হচ্ছে। তবে কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্যাছড়া এখন যেন বিলাতি ধনিয়াপাতার জন্য প্রসিদ্ধ স্থান। প্রতিদিন ট্রাক ভরে এখান থেকে ধনিয়াপাতা চলে যাচ্ছে সারা দেশে। এই সুবাদে পাহাড়ি নারীরা হচ্ছেন স্বাবলম্বী।
শুধু ওয়াগ্যা নয়, কাপ্তাই উপজেলার প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায়ও চাষিরা এখন বিলাতি ধনিয়া চাষ করছেন বেশ আগ্রহের সঙ্গে। স্বল্প সময়ে এই ধনিয়ার ফলন ভালো হওয়ায় অধিকাংশ জুমিয়া দিন দিন ঝুঁকছেন বিলাতি ধনিয়া চাষের দিকে। এ বছর কাপ্তাই, ওয়াগ্যায় তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া ও শীলছড়ি মারমা পাড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বিলাতি ধনিয়ার ব্যাপক চাষ হয়েছে।
একসময় পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে শুধু তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বিলাতি ধনিয়াপাতার চাষ করত। কালের বিবর্তনে আগ্রহ বেড়েছে অন্যান্য সম্প্রদায়ের কৃষকের মধ্যেও। সরেজমিনে ওয়াগ্যা এলাকা ঘুরে জানা যায়, বিলাতি ধনিয়া পাহাড়ি এই অংশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কিষান-কিষানিরা বিলাতি ধনিয়া চাষ করে ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারছেন। এ ধনিয়াতে তেমন কোনো রোগবালাই দেখা যায় না।
তবে কখনো কখনো অতিরিক্ত গরম ও দাবদাহের কারণে বিলাতি ধনিয়াপাতায় ছত্রাকজনিত একজাতীয় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্যোগ কামনা করেছেন এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। রাঙামাটি কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় এ বছর ২১৫ হেক্টর জমিতে বিলাতী ধনিয়াপাতার চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন।

Disconnect