ফনেটিক ইউনিজয়
কোম্পানীগঞ্জে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হাজারো মানুষ
সুমন ভৌমিক, নোয়াখালী

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহি ইউনিয়নের পূর্ব গাংচিল, চর কাদির ও চরকলমী চরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারের ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসতি। ৭০ দশকে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা এ চরাঞ্চলে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষের বসবাস। এখানে নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। তাই শুষ্ক মৌসুমে চারদিকে দেখা দেয় পানির হাহাকার। বর্ষায় তাদের পান করতে হচ্ছে পুকুর ও খালের পানি। স্বাস্থ্যসম্মত সেনিটেশন ব্যবস্থাও অপ্রতুল। ফলে বাসিন্দারা ব্যবহার করছে খোলা টয়লেট। যাতায়াতের জন্য রাস্তা-ঘাট না থাকায় তাদের বিভিন্ন দুর্ভোগে পোহাতে হয়। এ অঞ্চলে নেই কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্বাস্থ্য সেবার কোনো ব্যবস্থাই নেই এখানে। ফলে বিভিন্ন সময় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন গর্ভবর্তী মা, শিশু ও বৃদ্ধরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পূর্ব গাংচিল ও ৭নং ওয়ার্ডের চরকলমী গ্রামের হাজারো বাসিন্দার অমানবিক জীবন-যাপনের চিত্র। স্থানীয় অধিবাসী নাছিমা আক্তার জানান, কয়েক বাড়ি ডিঙিয়ে পানি আনতে হয়। বর্ষায় আরও বেশি কষ্ট হয়। তখন পুরো এলাকায় বুক সমান পানি থাকে। বর্ষায় বেশির ভাগ সময়ে খেতে হয় খাল ও পুকুরের পানি। শুষ্ক মৌসুমে পুকুরেও পানি থাকে না। ফলে এই সময় গোসলসহ ঘরের বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সত্তর দশকের দিকে মেঘনা নদীর বুকে চরদুটি জেগে ওঠে। এর প্রায় ১৫ বছর এ অঞ্চল ডুবো চর ছিল। নব্বই দশক থেকে এখানে পুরোদমে বসতি স্থাপন শুরু হয়। এখানে বসবাসকারীদের বেশিরভাগই জেলার কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর, হাতিয়া, লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও ভোলা জেলার চর ফ্যাশনের নদী ভাঙনের শিকার ভূমিহীন মানুষ। ২০-২৫ বছরেরও বেশি সময় দখলে থেকে বসতি গড়লেও অনেক ভূমিহীন ওই জায়গার মালিক হতে পারেনি। আবার ভূমিহীনদের দখলে থাকা সম্পত্তি বন্দোবস্ত হয়ে গেছে কোনো কোনো প্রভাবশালীর নামে।
চরএলাহীর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রেজ্জাক জানান, ‘মাত্র এক বছর হলো দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্বকালীন সময়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওই চরগুলোতে ইতিমধ্যে কয়েকটি টিউবওয়েল দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইতিমধ্যে জাইকার উন্নয়ন খাতে ছয় কোটি টাকার একটি বাজেট জমা দেওয়া হয়েছে। বাজেট পেলে রাস্তা, খাল খনন ও স্লুইজগেইটসহ কিছু কালভার্ট করা হবে।’ তিনি জানান, বাজেট স্বল্পতার কারণে উন্নয়ন গতিশীল হয়নি। তবে প্রশাসন এ অঞ্চলের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম জানান, তিনি যোগদান করেছেন বেশিদিন হয়নি। ‘উল্লেখিত সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে’ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Disconnect