ফনেটিক ইউনিজয়
নাটোরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার হাতছানি
তাপস কুমার, নাটোর

নাটোরের লালপুর উপজেলায় পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে হাতছানি দিচ্ছে বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সারাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মধ্যে এটি একটি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারের বিপুল পরিমাণ খাস জমি, বিদ্যুতের সহজলভ্যতা, গ্যাস সরবরাহের সুযোগ, পানির সরবরাহ ও বণ্টনের সুবিধা, বর্জ্য সংগ্রহ ও শোধন, অপসারণের সুবিধা, সহজে কাঁচামাল প্রাপ্তির সবরকম সুবিধাসহ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনাই রয়েছে ওই এলাকায়। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে নদীভাঙন কবলিত অঞ্চলটি একদিকে যেমন নদীভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি লালপুরসহ জেলার কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গেছে, চরজাজিরা, আরাজিবাকনাই, লালপুর, রসুলপুরসহ যেসব মৌজার জমি খাস রয়েছে, সেসব জমির ওপর দিয়ে এক সময় প্রবাহিত ছিল পদ্মা নদীর মূল স্রোতধারা। ফলে ১৯৬৭ সালে আরএস রেকর্ড (১৯৭২ সালে বিতরণকৃত) প্রস্ততকালে তা কোনো ব্যক্তির নামেই রেকর্ড হয়নি। বর্তমানে পদ্মা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জেগে ওঠা ওই জমি সরকারি খাস খতিয়ানে রয়েছে। তাই কোন ব্যক্তি বিশেষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মূলত উপজেলার চরজাজিরা মৌজাকে লক্ষ্য করেই অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই মৌজাতে তিনশো একরের বেশি খাস জমি রয়েছে। আর এই খাস জমিতেই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ। তবে রাস্তাঘাট নির্মাণে জমি দরকার হলে তা অধিগ্রহণ করা হবে।
জমি অনুমোদনের পর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গত ২ মে ২০১৫ স্থান নির্ধারণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়। পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক নুরুন্নবী মৃধা উপজেলার চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পক্ষে মত দেন। এর পর থেকে লালপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সম্প্রতি পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানান, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্থনৈতিক জোনের কাজ শেষ হবে। এর জন্য প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও নাটোর জেলা প্রশাসনকে যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সমীক্ষার কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই লালপুরের অর্থনৈতিক জোনের জমি অধিগ্রহণসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শুরু হবে বলেও তিনি জানান।

Disconnect