ফনেটিক ইউনিজয়
উৎপাদন কম হওয়ায় বরফের দাম আকাশচুম্বী
ইমরান হোসাইন, বরগুনা

দেশের দ্বিতীয় মৎস্য অবতরণকেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা। ইলিশ মৌসুম হওয়ায় বাজারে ইলিশের ছড়াছড়ি। সাগর থেকে সারিবদ্ধভাবে মাছভর্তি ট্রলার আসছে ঘাটে। একদিকে পাইকারেরা মাছ কিনে প্যাকেট করছেন, অন্যদিকে মাছ বিক্রি করে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে মাছবাজার যেন জমজমাট।
সাগরে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লেও জেলে, ট্রলার মালিক ও পাইকারদের মধ্যে হতাশাও রয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে জেলেদের চাহিদামতো বরফ উৎপাদন না হওয়ায় ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না, তেমনি পাইকারেরাও মাছ কিনে পড়েছেন বিপাকে। বরফ-সংকট থাকায় পাইকারদের চাহিদা মিটছে না, এতে মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এদিকে বরফ-সংকট থাকায় দামও আকাশচুম্বী। বরফ মালিকেরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় বরফ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইলিশের ভরা মৌসুমে গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার পিস বরফ প্রয়োজন হয় জেলেদের। পাথরঘাটাসহ উপকূলের বেশিসংখ্যক জেলের চাহিদা মেটায় পাথরঘাটায় অন্তত ২২টি বরফ মিল। প্রতিটি বরফ মিলই কমবেশি বরফ উৎপাদন করে থাকে। বরিশাল বরফকলের মালিক মোস্তফা মিয়া সাম্প্রতিক দেশকালকে জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। এতে বরফ উৎপাদন করা সম্ভব নয়। একটি বরফ ঠিকভাবে জমাট বাঁধতে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। সেখানে যদি ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে ৩ ঘণ্টা তাহলে বরফ উৎপাদন করা সম্ভব হয় না।
কয়েকজন ইলিশের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইলিশ প্রচুর হওয়ায় দাম কম পাচ্ছেন তাঁরা। বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় বরফও বেশি প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে এক পিস (ক্যান) বরফ বিক্রি হতো ৩০০ থেকে ৩৫০, সেখানে এক ক্যান বরফ কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়।
বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সভাপতি সাফায়েত মুন্সি বলেন, পাইকারেরা মাছ কিনে চাহিদামতো বরফ না পাওয়ায় সংরক্ষণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ কারণে মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম লোডশেডিয়ের সমস্যার বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

Disconnect