ফনেটিক ইউনিজয়
সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে স্মার্ট পেট্রোল
জিয়াউস সাদাত, খুলনা

সুন্দরবনের নিরাপত্তায় শুরু হচ্ছে বিশেষ টহল ‘স্মার্ট পেট্রোল’। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই পেট্রোলের মাধ্যমে সুন্দরবনে কার্যকর টহল নিশ্চিত হচ্ছে কি না তা জানা যাবে। সেই সঙ্গে বনদস্যু ও জলদস্যুদের তৎপরতা কমে যাবে বলে বন বিভাগ আশা করছে।
সুন্দরবন বন বিভাগ সূত্র জানায়, এর আগে সুন্দরবনে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে স্মার্ট পেট্রোল পরিচালিত হয়েছে। এতে বনদস্যু ও জলদস্যুদের তৎপরতা হ্রাস এবং বন অপরাধ অনেকটা কমে যায়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সুন্দরবন বন বিভাগ গত এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ‘স্মার্ট পেট্রোল ব্যবস্থা’ নিয়মিত চালুর জন্য প্রস্তাব পাঠায়। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করে সেপ্টেম্বর তা চালু করার অনুমোদন দেয়।
জানা গেছে, প্রতিটি স্মার্ট পেট্রোল গ্রুপে আটজন করে বনরক্ষী দায়িত্ব পালন করবেন। একেকটি গ্রুপে তিনটি করে নৌযান থাকবে। এর মধ্যে একটি থাকবে মাদার ভেসেল। বাকি দুটি নৌযানের মধ্যে একটি স্পিডবোট ও একটি ফাইবার বোট থাকবে। এ ছাড়া তাদের নিরাপত্তার জন্য  চারটি করে আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হবে। প্রতিটি গ্রুপ বনের মধ্যে ১২ থেকে ১৪ দিন টহল দেবে। এই টহলের সময় তাঁরা প্রয়োজনে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারবে। প্রতিটি টহল গ্রুপের সঙ্গে থাকবে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) এবং সাইবার ট্র্যাকার। জিপিএস ও সাইবার ট্র্যাকারে তাদের টহলকালীন সব কর্মকা-ের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। পরবর্তী সময়ে মেমোরি কার্ডের সাহায্যে তাদের টহল-সংক্রান্ত কর্মকা- খতিয়ে দেখা হবে।
বর্তমানে গোটা সুন্দরবন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় নেই। ফলে সুন্দরবনের অধিকাংশ জায়গাতেই নেই ইন্টারনেট সুবিধা। এ কারণে বনে টহল দলের তৎপরতা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয় না। তবে ভবিষ্যতে পুরো বনে ইন্টারনেট সুবিধা চালু হলে স্মার্ট পেট্রোল সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।
বন বিভাগ সূত্র অনুযায়ী, অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বর্তমানে বনের অভ্যন্তরে সঠিকভাবে টহল দেওয়া সম্ভব হয় না। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ পাওয়া যাবে মাত্র ১০ লাখ টাকা। অথচ একটি নৌযান সুন্দরবনে একবার টহল দিয়ে ফিরে আসতে খরচ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। ফলে ১০ লাখ টাকা বছরের মাত্র ১৫ দিনের খরচ। স্মার্ট পেট্রোল প্রকল্পটি অনুমোদিত হওয়ায় এ খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে। এতে বনে বনরক্ষীদের জন্য নিয়মিত টহল ও নজরদারি করা অনেকটাই সুবিধা হবে।
খুলনার বন সংরক্ষক (সিএফ) আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, সুন্দরবনে স্মার্ট পেট্রোল প্রকল্পের জন্য গত এপ্রিলে সরকারের কাছে প্রস্তাব করা হয়। সরকার প্রকল্পটি গ্রহণ করে তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গত ২৯ জুলাই বাগেরহাটে বন অধিদপ্তর আয়োজিত বাঘ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্মার্ট পেট্রোল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যুদের তৎপরতা হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Disconnect