ফনেটিক ইউনিজয়
বাম্পার ফলনে আলু এখন ‘গলার কাঁটা’
এইচ আলিম, বগুড়া

বগুড়ায় রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদনই এখন সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে। বেশি ফলন হওয়ায় বগুড়া অঞ্চলের হিমাগারে পড়ে আছে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন আলু। আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হিমাগারের মালিকেরা। আর বেশি দামে আলু কিনে হিমাগারে রাখার পর বাজারে চাহিদা না থাকায় প্রতি বস্তায় লোকসান গুনতে হচ্ছে আলু ব্যবসায়ীদের। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু অবিক্রীত থাকার বোঝা মাথায় নিয়ে আবারও আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন জেলার আলুচাষিরা।
হিমাগারের মালিকেরা বলেন, দেড় থেকে দুই মাস পরই নতুন আলু বাজারে উঠবে। অথচ গত বছরের উৎপাদিত মজুতের প্রায় অর্ধেক আলু এখনো হিমাগারে রয়েছে। বেশি মুনাফার আশায় স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে হিমাগারে মজুত করেন। আলুর চাহিদা বাড়লে সেই আলু তাঁরা বিক্রি করেন। তবে আপাতত ওই ব্যবসায়ীদের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই আলু। বগুড়া অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হওয়ায় বাজারে আলুর দাম বাড়েনি। সারা বছর প্রায় একই দামে আলু বিক্রি হয়েছে।
বগুড়া, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা নিয়ে গঠিত হিমাগারের মালিকদের সংগঠন কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, তিন জেলায় বর্তমানে ৫৩টি হিমাগার রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় রয়েছে ৩৩টি, নওগাঁয় ৪টি এবং ১৬টি রয়েছে জয়পুরহাটে। হিমাগারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা আলু মজুত রাখা যায়। প্রতি বস্তায় আলু রাখা যায় ৮৪ কেজি। সাধারণত অক্টোবর মাসে আলু উত্তোলন শুরু হয় এবং নভেম্বর মাসে এসে হিমাগার খালি হয়ে যায়। কিন্তু এ বছরের নভেম্বর মাস শুরু হলেও আলু এখনো বিপুল পরিমাণে পড়ে আছে হিমাগারে।
বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, তাঁর কোল্ড স্টোরেজটি ১ লাখ ২০ হাজার বস্তা ধারণক্ষমতার। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার বস্তা আলু মজুত করা হয়। প্রায় ৪০ হাজার বস্তা এখনো অবিক্রীত রয়েছে। বগুড়া ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী তোফাজ্জল হোসেন জানান, তাঁর হিমাগারের এখনো ৫০ হাজার বস্তা আলু মজুত রয়েছে। সারা বছরে মাত্র অর্ধেক আলু বিক্রি হয়েছে। আলু এতটা ধীরে উত্তোলন হচ্ছে যে নতুন আলু মৌসুম চলে এলেও প্রচুর পরিমাণ আলু অবিক্রীত থেকে যাবে।

Disconnect