ফনেটিক ইউনিজয়
নোয়াখালীতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা
সুমন ভৌমিক, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে গত এক মাস ঠান্ডাজনিত শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। সরকারি হাসপাতালগুলোয় স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও অভিভাবকদের।
২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডগুলোর নির্ধারিত সিটে তিল পরিমাণ জায়গা খালি নেই। ওয়ার্ডের ফ্লোরেও রাখা হয়েছে রোগীদের। এ ছাড়া ওয়ার্ডের সিট ও মেঝেতে স্থান না হওয়ায় বাইরে করিডোরের ফ্লোরে সিট দিয়ে রাখা হচ্ছে এসব শিশুরোগীকে। ভর্তি হওয়া এসব শিশুর বেশির ভাগই শূন্য থেকে এক বছর বয়সী। তারা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও জ্বরে ভুগছে। কিছু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।
সুবর্ণচর উপজেলা থেকে আসা চার মাস বয়সী রোগী রাব্বির মা তাছলিমা খাতুন বলেন, গত পাঁচ দিন আগে রাব্বিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির দিন বিকেলে প্রথমে সুবর্ণচর ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির জন্য গেলে সেখানে অতিরিক্ত রোগী থাকায় তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে। এখানে এসেও রোগীকে নিয়ে থাকতে হচ্ছে ওয়ার্ডের মেঝেতে।
তিনি আক্ষেপ ও অভিযোগ করে বলেন, সামান্য কেনোলা পর্যন্ত বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। পাঁচ দিনের মধ্যে দুটি ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে হাসপাতাল থেকে। এ ছাড়া সব ওষুধ কিনতে হয়েছে বাইরে থেকে। গত পাঁচ দিনে শুধু বাইরে থেকেই তাঁকে সাড়ে তিন হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। দরিদ্র হওয়ায় শিশুর জন্য ওষুধ কিনতে বেগ পেতে হচ্ছে তাঁকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পুরো হাসপাতালই হচ্ছে ২৫০ শয্যার। সে ক্ষেত্রে ওষুধ আসে শয্যা হিসাব করে। দেখা গেছে শিশু ওয়ার্ডেই ভর্তি রয়েছে প্রায় ২০০ রোগী। ফলে একদিনেই হাসপাতালে থাকা ওষুধের মজুত শেষ। সরবরাহ কম থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে বলে স্বীকার করেন কয়েকজন নার্স ও কর্মকর্তা।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকা নিশ্চিত করে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আনম সামছুল করিম বলেন, সিটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত লোকবল ও বাইরে সিটের ব্যবস্থা করেছে। তা ছাড়া যেসব ওষুধ হাসপাতালে এখনো রয়েছে, তা রোগীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। যেগুলো নেই, সেগুলো রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তাঁর মতে, হাসপাতাল থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হচ্ছে রোগীদের।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুরা ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডাইরিয়া, নিমোনিয়া, জ্বর ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব শিশু।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নুরুল আবসার বলেন, মূলত ঋতু পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। দেখা যায়, দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা। ফলে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুরা। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অনেক কম।

Disconnect