ফনেটিক ইউনিজয়
শারীরিক সীমাবদ্ধতা ডিঙিয়ে সালামের জীবনসংগ্রাম
জিয়াউর রহমান, নেত্রকোনা

তিনি ছিলেন পেশায় একজন কৃষক। ১৫ বছর আগে হঠাৎ তাঁর টাইফয়েড জ্বর হয়। চিকিৎসার পর টাইফয়েড থেকে রক্ষা পেলেও আক্রান্ত হন প্যারালাইসিসে। এতে তাঁর দুটি হাতই শক্তিহীন হয়ে পড়ে। সেই থেকে শুরু হয় নেত্রকোনার মদন উপজেলার মদন ইউনিয়নের পরশখিলা গ্রামের আব্দুল মজিদ বেপারির ছেলে সালামের শারীরিক সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম।
যে সহায়-সম্পদ ছিল, তা রোগের চিকিৎসায় খরচ হয়ে যায়। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সৃষ্টির পর কিছুদিন ভিক্ষা করে জীবন চালাতে থাকেন সালাম। পরে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সংসার পরিচালনার উদ্দেশ্যে কাজে নেমে পড়েন। অল্প কিছু টাকা সঞ্চয় করে শুরু করেন মুরগির ব্যবসা। এ ব্যবসায় লাভের মুখ দেখেন সালাম।
মদন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে মোরগ-মুরগি কিনে তা বহন করতে তাঁর অনেক কষ্ট হয়। কারণ দুটি হাতই অকেজো। সাইকেল চালাতে পারেন না। তাই তিনি নিজের গলায় করে মোরগ-মুরগি বহন করেন। বর্তমানে এই ব্যবসা করেই জীবন চালাচ্ছেন সালাম।
এ প্রসঙ্গে সালামের সঙ্গে কথা হলে তিনি হাসিমুখে জানান, ‘রোগে সবকিছু হারিয়ে প্রথমে কিছুদিন ভিক্ষা করেছি। কিন্তু মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করা ভালো না। তাই ব্যবসা করছি। নিজের কষ্টে উপার্জিত টাকা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি।’ যা লাভ হয়, তা দিয়ে মোটামুটি ভালোভাবেই সংসার চলে যায়। তবে ৫ সদস্যের সংসার চালিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পান কি না জিজ্ঞেস করলে সালাম জানান, ‘আগের চেয়ারম্যান সাহেব আমারে একটা কার্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কোনো কিছু পাচ্ছি না।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান শেখ মানিক জানান, ‘সালাম ভিক্ষা না করে ব্যবসা করে খুব কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছে। আমার পরিষদের মাধ্যমে আমিও তাকে সহযোগিতা করব।’

Disconnect