ফনেটিক ইউনিজয়
পূর্বজদের পেশা ধরে রেখেছে শীতল পাটির গ্রাম
শাহাদাত হোসেন তৌহিদ, ফেনী

শীতল পাটি শুধু গ্রামবাংলা নয়, বাঙালি ঐতিহ্যের এক নিদর্শন। দুপরের আহারের পর বা গ্রীষ্মের খরতাপে ক্লান্ত দেহ বিছানায় উজাড় করে দেওয়া এক পরম স্বস্তির অনুভূতি। গ্রামে শীতল পাটির কদর যুগ যুগ ধরেই রয়েছে। তবে শুধু গ্রামে নয়, নগরের মানুষের কাছে এখনো কমেনি এর কদর।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার উত্তর বাজারে যুগি গ্রামে একসময় বিশাল পরিসরে বোনা হতো শীতল পাটি। এখন সেটির পরিসর ছোট হয়ে এসেছে। ধীরে ধীরে তা অনেক জায়গায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে পৌরসভার যুগী গ্রামে এখনো কয়েক শ পরিবার শীতল পাটি বোনার সঙ্গে যুক্ত। পূর্বজদের ঐতিহ্য তারা ধরে রেখেছেন। শীতল পাটি ছাড়াও অন্যান্য পাটি বোনা হয় এখানে।
স্থানীয়রা জানান, এখন শীতল পাটির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু পাটি তৈরির উপকরণের অভাবে বোনা যাচ্ছে না শীতল পাটি। ৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের একটি পাটি তৈরিতে একজন কারিগরের ৭/৮দিন সময় লাগে। একটি পাটি বিক্রি হয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের পাটিও তৈরি হয়। দামেও থাকে ভিন্নতা।
যুগি গ্রামে পাঁচ শতাধিক হিন্দু পরিবার রয়েছে। মূলত তাদের ঘিরেই গড়ে উঠেছে শীতল পাটিশিল্প। এখানকার প্রায় ২৫০ পরিবার শীতল পাটি তৈরির সঙ্গে জড়িত। কয়েক শ বছর ধরে এটাই তাদের পেশা। তবে পরিসর অনেক ছোট হয়ে এসেছে। অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন এ পেশা। এরপরও কিছু মানুষ নাড়ির টানে বাপ-দাদার এ পেশাকে জিইয়ে রেখেছেন।
যুগী গ্রামের মধ্য বয়সী জ্যোতি রানী ও মিশুকা রানী বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে আমরা এ পেশায় জড়িত, আমাদের পূর্বজরা এ পেশা ছাড়তে নিষেধ করে গেছেন। তা ছাড়া এর প্রতি বিশেষ মায়া, ছাড়তে পারি না।’
পাটি তৈরির প্রবীণ কারিগর, ৮২ বছর বয়সী ধীরেন্দ্রকুমার নাথ জানান, তাঁর বাবা-চাচারাও এ পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনিও দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তিনি আরও বলেন, সরকারের সহযোগিতা না পেলে পাটিশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম জানান, সরকারি বরাদ্দ পেলে পাটি তৈরির কারিগরদের সহায়তা দেওয়া হবে এবং এ পেশাকে আরও গতিশীল করা হবে।

Disconnect