ফনেটিক ইউনিজয়
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাবি শিক্ষার্থীরা!
মানিক রাইহান, রাবি (রাজশাহী)

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি, ছিনতাই, চুরিসহ নানা ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বিরাজ করছে। একের পর এক নিরাপত্তাহীনতার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে, ১৭ নভেম্বর তাপসী রাবেয়া হল থেকে বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শোভা পরীক্ষা দিতে বের হলে তার সাবেক স্বামী জোর করে মইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ছাত্রী অপহরণের পরে আবাসিক হলের ছাত্রীরা আন্দোলনে নামলে পুলিশ অপহৃত ছাত্রীকে ৩০ ঘণ্টা পরে ঢাকার মোহম্মদপুর থেকে উদ্ধার করে। ২০ নভেম্বর রাতে হলের সামনে বহিরাগত মোটরসাইকেলে এসে শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। ২১ নভেম্বর ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী টিউশনি শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে যৌন হয়রানির শিকার হন।
এদিকে অপহরণের ঘটনাসহ অন্যান্য ঘটনায় ক্যাম্পাসে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক হলের পুলিশের কী কাজ, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ শুধু বসে মোবাইলে ইউটিউবে ভিডিও দেখে। হলের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। হলে কোনো মারামারি হলে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চায়।’
রাতে ক্যাম্পাসে একা চলার অর্থ হচ্ছে নিজের বিপদ ডেকে আনা। বিশেষ করে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে হবিবুর রহমান হলে যাওয়ার রাস্তায়, কাজলা গেট দিয়ে ঢুুকে জুবেরী মাঠ, চারুকলা অনুষদের রাস্তায়, ইবলিশ চত্বরের রাস্তায় সন্ধ্যা হলে ছিনতাইকারী চক্র অবস্থান নেয়।
এদিকে সবচেয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে আবাসিক হল চুরির ঘটনা। হলে কর্মরত দারোয়ান ও পুলিশ থাকা সত্ত্বেও ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটতেই থাকে। বিশেষ করে গত দুই মাসে নবাব আব্দুল লতিফ হলে আবাসিক শিক্ষার্থীর চারটি ল্যাপটপ, আটটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘হলে চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়িত নন। বরং গার্ড বা পুলিশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বহিরাগত টোকাইরা এসব চুরি করে থাকে।’ এই চুরি যে শুধু লতিফ হলে হয় তা নয়, বরং প্রতিটি হলেই চুরি করে যাচ্ছে অপরাধীরা।
বিশ্ববদ্যিালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তমশ্রী দাস বলেন, যৌন হয়রানির মূল কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু। হয়রানিতে যারা জড়িত, সুষ্ঠু তদন্ত করে তাদের বিচার করা হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে যৌন হয়রানির সেল আছে, সেটার বাস্তবায়ন নেই। ক্যাম্পাসে পুলিশি নিরাপত্তা আপাতদৃষ্টিতে সমাধান মনে হলেও এটা স্থায়ী সমাধান নয়। সমাধানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে যে সান্ধ্য কোর্স চালু আছে, সেটাকে বন্ধ করতে হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি অনাকাক্সিক্ষত যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, এ জন্য আমরা উদ্বিগ্ন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আশা করি এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’

Disconnect