ফনেটিক ইউনিজয়
একাদশ সংসদ নির্বাচন
মানিকগঞ্জে নতুন প্রার্থীর ছড়াছড়ি
আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ
মমতাজ বেগম, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, জাহিদ মালেক স্বপন, মাইনুল ইসলাম খান শান্ত
----

মানিকগঞ্জে ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জেলায় সংসদীয় আসন চারটি থাকলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় একটি আসন কমিয়ে ফেলায় বর্তমানে জেলায় তিনটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এই তিনটি আসনে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে চমকপ্রদ কিছু হতে পারে বলে মনে করছে সাধারণ জনগণ। আর তৃণমূলের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের দাবি, এবারের মনোনয়ন যেন অর্থের বিনিময়ে না হয়। মনোনয়ন যেন সৎ ও দলের জন্য ত্যাগী নেতাদের দেওয়া হয়। অন্যথায় দলীয় প্রার্থীর হেরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই জেলার তিনটি আসনেই গত দুবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। তাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
এবার জেলার সংসদীয় তিনটি ১৬৮, ১৬৯ ও ১৭০ আসনে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে। প্রধান দুই দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী। ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসন গঠিত। সিঙ্গাইর ও হরিরামপুর উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ আসনটি গঠিত। এ ছাড়া সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি গঠিত। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এলাকার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী তিনি। এ ছাড়া এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এ বি এম আনোয়ারুল হক, আব্দুস সালাম, এস এম জাহিদ ও সুভাষ চন্দ্র সরকার।
অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলাও রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও আব্দুল হামিদ ডাবলুও নিজেদের মতো করে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজাও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। জাতীয় পার্টি থেকে সুলতান মাহমুদ এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনিও দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চাইবেন সাবেক ফুটবলার দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুল ও সাবেক চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান হান্নান। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মাইনুল ইসলাম খান শান্ত। এ ছাড়া আবিদুল রহমান নোমান ও সাইফুল হুদা চৌধুরী শাতিলও দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সৈয়দ আব্দুল মান্নান ও মিজানুর রহমান মিরু।
মানিকগঞ্জ-৩ জেলা সদরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিও দলের সম্ভাব্য প্রার্থী। তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটো এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ড. রফিকুল ইসলামও দলীয় প্রতীক পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপি থেকে আফরোজা খান রিতার মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। এ ছাড়া আরও দুজন দলীয় প্রতীক পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন আতাউর রহমান আতা ও অ্যাডভোকেট জামিলুর রশীদ খান। জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন জহিরুল আলম রুবেল ও অ্যাডভোকেট হাসান সাঈদ। এ ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আজহারুল ইসলাম আরজু, গণফোরাম নেতা মফিজুল ইসলাম খান কামাল এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে।

Disconnect