ফনেটিক ইউনিজয়
লক্ষ্মীপুরে সুপারির বাম্পার ফলন
নুরুল আলম চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে অর্থকরী ফসল সুপারির এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষিজমির পাশে কিংবা বাড়ির আঙিনায় সুপারিগাছ রোপণ করে এখানে উৎপাদন হচ্ছে শত শত কোটি টাকার সুপারি। অর্থকরী এ ফসলকে ঘিরে এ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। উৎপাদিত এ ফসলের বাজারদর ভালো থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর, রামগতিসহ জেলার পাঁচ উপজেলায় ৬ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে সুপারি-বাগান রয়েছে। আর এসব বাগান থেকে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়। জেলার প্রতিটি উপজেলায় প্রতিটি বাড়ির আশপাশের বাগানগুলোয় সারি সারি রোপণ করা সুপারিগাছ দৃষ্টি কাড়ে সবার। বর্তমানে এসব গাছ থেকে সুপারি সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বাগানিরা। একই সঙ্গে সুপারি মৌসুমে বাগানিরা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বাগান ইজারা দিয়ে আয় করেন। আর ইজারাদারেরাও লাভবান হন বলে জানান।
বর্তমানে কাহনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা হারে নগদে বিক্রি করেন কেউ কেউ। অনেকে ভিজিয়ে ও শুকিয়ে রেখে ৩ থেকে ৪ মাস পর আরও বেশি দামে সুপারি বিক্রি করার প্রত্যাশায় থাকেন। এদিকে একেকজন শ্রমিক সুপারি পেড়ে গাছপ্রতি ৫ টাকা হারে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করেন বলে জানান।
এখানে উৎপাদিত সুপারি জেলাবাসীর চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। লাভজনক ও অর্থকরী পণ্য হওয়ায় সুপারি উৎপাদনে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও সুপারি রপ্তানিযোগ্য প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপন না হওয়ায় ভালো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করে প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান লক্ষ্মীপুরবাসী।

Disconnect