ফনেটিক ইউনিজয়
পরিতোষের কপালে জোটেনি চাকরি
তাপস কুমার, নাটোর

মায়ের পাঠানো টাকায় খাওয়া-হোস্টেল ভাড়া আর টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর চেষ্টা করে প্রতিবন্ধী যুবক পরিতোষ বিবিএ পাস করছেন। কিন্তু কপালে জোটেনি কোনো চাকরি।
জানা যায়, এনএস সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে বিবিএ পাস করা মেধাবী ছাত্র পরিতোষ কুমার। ইতিমধ্যে বিবিএ অনার্সে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। শারীরিক প্রতিবন্ধী পরিতোষের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলার বনকুড়াইল গ্রামে। তিনি যখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র, তখন বাবা জ্যোতিষ চন্দ্র মারা যান। অনাথ পরিতোষ ও তাঁর পুরো পরিবারের ভার তখন তাঁর মায়ের কাঁধে। নিজেদের থাকার ভিটেটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই। ভাইবোনেরা তখন ছোট। বহু কষ্টে গ্রামের একটি স্কুলে পরিতোষকে পড়ালেখা করান তাঁর মা। ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.০০ পেয়ে সিংড়ার রহমত ইকবাল ডিগ্রি কলেজ উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। অল্প দিনেই পড়াশোনায় ভালো করার কারণে নজরে আসেন কলেজের শিক্ষকদের। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর পড়াশোনায় আগ্রহ দেখে কলেজের অধ্যক্ষ মুনসুর রহমান মুকুলের আন্তরিকতায় পরিতোষের পড়ালেখার যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ওই কলেজ থেকে ২০১১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯০ পেয়ে পাস করেন পরিতোষ। তাঁর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারেননি। একই বছর নাটোরের এন এস সরকারি কলেজে অনার্স হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। এর কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারেন অনার্সে পড়ালেখার খরচ বহন করা তাঁর পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তিনি পুনরায় ওই কলেজেই ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমানে চারটি টিউশনি করছেন তিনি। আর এই টাকা দিয়েই তিনি মেটান তাঁর খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ। কিন্তু অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ ঠিকমতো দিতে পারেন না। অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে ভাবেন, কবে আসবে সুদিন। কবে পাবেন চাকরি। বাড়ির ৭ শতক জমি তাঁর চাচার দান করা। এ ছাড়া এক টুকরো জমিও নেই। টাকা দিয়ে চাকরি নেওয়ার মতো সামর্থ্য  নেই।
অন্যদিকে বাড়িতে অসুস্থ মা। ঋণের বোঝা নিয়ে তিন ভাই বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি নিরুপায়। শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে জয় করেছেন এবং প্রমাণ করেছেন, শুধু ইচ্ছাশক্তিই একজন মানুষের এগিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট, পরিতোষ তার প্রমাণ।
তিনি চান তাঁর মতো অন্য প্রতিবন্ধীদের সাহায্য করতে, আর দশজন মানুষের মতো হতে, মানুষের সঙ্গে চলতে, ফিরতে, কাজ করতে।

Disconnect