ফনেটিক ইউনিজয়
বাল্যবিবাহের গ্রাম গোয়ালনগর!
মুরাদ মৃধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

দারিদ্র্য ও অশিক্ষার প্রভাবে গোয়ালনগর গ্রামে দিন দিন বেড়েই চলেছে বাল্যবিবাহ। সম্প্রতি জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলপড়ূয়া শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে বাল্যবিবাহে সহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউপি চেয়ারম্যানের দেওয়া সনদের কারণে গোয়ালনগর উচ্চবিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি শিশু বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশে বাল্যবিবাহের বয়স নির্ধারণ নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত আইনে মেয়েদের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ ও ছেলেদের ২১ বছর রাখা হয়েছে। তবে আইনে বিশেষ বিবেচনায় মেয়েদের ১৮ বছরের কম বয়সেও বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মা-বাবা ও আদালতের অনুমতি লাগবে। এসব বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই গোয়ালনগর ইউপি চেয়ারম্যানের।
গোয়ালনগর বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চলতি বছরে তাঁর বিদ্যালয়ের ছাত্রী হাওয়া বেগম, শারমিন আক্তার, মাকসুদা আক্তারসহ কয়েকটি শিশুর বাল্যবিবাহ হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্ট্রার অনুযায়ী এসব শিশু ১৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী। তবে তাদের ১৮ বছর বয়স দেখিয়ে জন্মসনদ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজহারুল হক বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। যথাযথ নিয়মেই জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়ে থাকে। একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে হেয় করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
এ ব্যাপারে নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, ‘বাল্যবিবাহ ঠেকানোর জন্য আমরা সব সময় তৎপর আছি। আমি অনেকগুলো বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছি।’

Disconnect