ফনেটিক ইউনিজয়
ভৈরবে ‘ডাকাত’ আতঙ্ক
আল আমিন টিটু, ভৈরব

দিন শেষে রাত নেমে এলেই এলাকার মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে ডাকাতের ভয়ে। নিত্যদিনের এই চিত্র কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শিবপুরে ইউনিয়নের শম্ভুপর গ্রামের। ফলে কয়েক দিন ধরে ‘ডাকাত’ আতঙ্কে দিন যাপন করছে উপজেলার শম্ভুপুর, শিবপুর ও কালিকাপ্রাসাদসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামজুড়ে। এতে নিজ বাড়ি-ঘরে বসবাসে চরম উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে হাজারো মানুষ।
প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। আজ এই এলাকায় তো কাল অন্য এলাকায়। শুধু গ্রামে নয়, শহরেও একের পর এক ঘটছে এসব ঘটনা। তাই ডাকাতদের হাত থেকে রেহাই পেতে অনেক এলাকায় নিজেরাই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী। কোথাও কোথাও পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে। বিত্তবানদের কেউ কেউ আবার বাড়িতে সিসি ক্যামেরাও লাগিয়েছে। এরপরও তাদের কিছুতেই যেন ভয় কাটছে না।
জানা গেছে, শম্ভুপুর গ্রামের বড় কান্দায় ১২ জন পাহারাদার নিয়োগ করেছে এলাকাবাসী। রাত ১০টার পর থেকে বাঁশি, লাঠি ও টর্চ লাইট নিয়ে ‘হুঁশিয়ার, সাবধান’ বলে তারা এলাকা পাহারা দিচ্ছে।
সম্প্রতি কালিকাপ্রাসাদের গাজীরটেকের বাসিন্দা মৎস্যজীবী মিন্টু মিয়ার বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেয়। ডাকাতরা যাওয়ার পথে এক লাখ টাকা দামের একটি অস্ট্রেলিয়ান গাভি নিয়ে যায়। এর চার দিন আগে শম্ভুপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার হাজী মুন্তাজ মিয়ার বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেয়। তখন মসজিদের মাইকে বলা হলে লোকজন লাঠিসোঁঠা, দা ও বল্লম নিয়ে ডাকাতদের তাড়া করে। পরদিন আবার ডাকাতরা হানা দিলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিনের বাড়িতে ডাকাতরা তাঁর পরিবারের লোকজনের হাত-পা বেঁধে একটি টেলিভিশন, টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। ডাকাতরা প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় বলে দাবি তাঁর।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটতে পারে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, ‘আমরা থেমে নেই। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।’

Disconnect