ফনেটিক ইউনিজয়
সালিশে গ্রাম পুলিশের সাজা
শওকত হোসেন, ধামরাই (ঢাকা)

আমাদের সমাজে পুলিশ প্রশাসনের মতো গ্রাম্য পুলিশের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজের বিশৃঙ্খলা, মাদক, নিরাপত্তা, অন্যায়-অপকর্মের সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের বিষয় প্রশাসনকে অবহিত করাই গ্রাম পুলিশের কাজ। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একটি স্তম্ভ হলো গ্রাম পুলিশ।
ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবদুল করিম ও তাঁর পরিবারের ওপর মাদক বিক্রেতাদের হামলা হয়েছে। আবার প্রভাবশালী এক নেতার উদ্যোগে করিমের বিরুদ্ধে বিচার করে সাজা হিসেবে তাঁকে জুতার বাড়ি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর ঈদের দিন যখন সবাই আনন্দ-উল্লাস করছিল, তখন স্থানীয় যুবক জাকির হোসেন, সেলিম মোল্লা, রতন মোল্লাসহ সাত-আটজন যুবক আবদুল করিমের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে, তাঁর স্ত্রী মালা বেগম ও ছেলে শাকিলের ওপর হামলা করে এবং বাড়িঘর তছনছ করে ফেলে। কান্নাকাটির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাঁদের ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। আবদুল করিমের অপরাধ, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের নাম তিনি পুলিশকে বলে দিয়েছিলেন। পরে আসামিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় মাতবরদের কাছে বিচার চাওয়া হয়। বিচারের উদ্দেশ্য হলো করিমের ওপর হামলা ধামাচাপা দেওয়া। বিচারের এজেন্ডা দেওয়া হয় করিমের কাছে জাকির নাকি ২০ হাজার টাকা পান। করিম স্থানীয় যুবকদের কাছে মাদক বিক্রি করেন। করিম স্থানীয় মাদকসেবীদের পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং পরে তাঁদের ছাড়িয়ে দিয়ে টাকা খান।
মিথ্যা অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ঘটনার দুই দিন পর বান্নাখোলা বাজারে মজলিশ বসানো হয়। মজলিশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা যুবলীগের সহসভাপতি, জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মাহতাব আলম। বিচারে করিমের কাছে ২০ হাজার টাকা পাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। গ্রাম পুলিশের বাড়িতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার কোনো বিচার পাননি তিনি। মাদকসেবীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া, তাদের কাছ থেকে টাকা খাওয়ার কোনো উপযুক্ত প্রমাণও পায়নি মজলিশ। তথাপি তাঁর ওপর রুষ্ট হয়ে বিচারের রায়ে দেওয়া হয় ২৫টি জুতার বাড়ি। ওই হামলা, বিচার, জুতার বাড়ির ঘটনার পর তিনি মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি ধামরাই থানার পুলিশ। পরে করিম আদালতে গিয়ে মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়। দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু ক্ষমতাবলে তারা জামিন পায় এবং মামলা তুলে না নিলে করিমকে সপরিবার হত্যার হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে মাহতাব আলম বলেন, ‘করিম একজন মাদক বিক্রেতা। সে এলাকার যুবকদের নষ্ট করছে, তাই তাঁর বিচার হয়েছে।’ করিমের বাড়িতে হামলার বিচারের কথা জিজ্ঞাসা করলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

Disconnect