ফনেটিক ইউনিজয়
রাজাপুরে অবাধে চলছে কোচিং-বাণিজ্য
রহিম রেজা, রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে অমান্য করে শিক্ষকেরা অবাধে চালাচ্ছেন কোচিং বাণিজ্য। প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একশ্রেণির শিক্ষক অবৈধভাবে এ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। কোচিং সেন্টারগুলোয় শিক্ষকেরা নিম্নমানের বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বই পড়তে ও কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গাইড বই প্রকাশনীরগুলো অসাধু শিক্ষকদের দিচ্ছেন মূল্যবান উপঢৌকন ও মোটা অঙ্কের অর্থ। এ কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদানে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন অভিভাবকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ছেলেমেয়েদের বাইরের কোনো শিক্ষকদের দ্বারা পড়ালে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওই শিক্ষকেরা ছেলেমেয়েদের পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নামে বেনামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত একটানা উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা অনুযায়ী নিষিদ্ধ হলেও শিক্ষা কর্মকর্তাদের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অভিভাবক মহলে। তাঁরা এ বাণিজ্য রোধে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইছেন। এমনকি প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কামনা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়ে রাজাপুর পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। সেখানে কয়েকজন শিক্ষক আলাদা প্রাইভেট ও কোচিং করাচ্ছেন, তাঁর মেয়েকে তাঁদের কাছে পড়তে নির্দেশ দেন এবং পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেবেন বলে প্রলোভন দেখান।
এমন হাজারো অভিযোগ উপজেলা সদরের অনেক নামিদামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ বিষয় রাজাপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক সোহরাব হোসেন জানান, বর্তমানে শিক্ষকদের মধ্যে কোচিং বাণিজ্যের একটি অশুভ চর্চা শুরু হয়েছে। কমেছে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের আগ্রহ ও মান। অভিভাবকেরাও শিক্ষকদের কথায় প্ররোচিত হয়ে অধিক নম্বরের আশায় কোচিংকেই বেশি প্রধান্য দিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল বলেন, ‘কোচিং বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি। নামে বেনামে গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোর তালিকা করেছি, শিগগিরই অভিযানের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Disconnect