ফনেটিক ইউনিজয়
জলাবদ্ধতা সহনশীল ধান উদ্ভাবন করেছেন দিলীপ তরফদার
কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা সহনশীল নতুন এক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন কৃষক দিলীপ তরফদার। স্থানীয় খেজুরছড়ি ও কুটে পাটনাই জাতের ধান সংকরায়ণের মাধ্যমে এই জাত উদ্ভাবন করেছেন তিনি। তিনি এই ধানের নাম দিয়েছেন তাঁর মায়ের নামে ‘চারুলতা’। এই ধান খেজুরছড়ি ও কুটে পাটনাইয়ের চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদনে সক্ষম। এমনকি বিআর ২২ ধানের চেয়ে বেশি ফলন দেয়। এর উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। গাছ তুলনামূলক শক্ত, তাই সহজেই হেলে পড়ে না। সংকরায়ণের পর চলতি আমন মৌসুমে সাত বছর পেরিয়েছে এ ধান।
দিলীপ তরফদার বলেন,  চাষাবাদের সময়কাল বিআর ২২ ও কুটে পাটনাইয়ের সমান হলেও খেজুরছড়ি থেকে ১৫ দিন কম। খেজুরছড়ি, কুটেপাটনাই বা বিআর ২২ উৎপাদনে যে পরিমাণ সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়, চারুলতা উৎপাদনে লাগে তার অর্ধেক। তাই খরচ কম হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো খেজুরছড়িতে যেখানে বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ, কুটে পাটনাইয়ে ১২ থেকে ১৩ মণ এবং বিআর ২২-এ ১৮ মণ ধান পাওয়া যায়, সেখানে চারুলতার উৎপাদন ২০ থেকে ২২ মণ। চারুলতা ধানের শেষাংশে কালো দাগ বা ফোঁটা থাকার কারণে বিআর ২২ থেকে সহজেই এর পার্থক্য করা যায়। স্থানীয় অনেকেই তাঁর কাছ থেকে চারুলতার বীজ নিয়ে জলাবদ্ধ জমিতে চাষাবাদ করে পেয়েছেন সফলতা। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) থেকে সংকরায়ণের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর ২০১০ সাল থেকেই শুরু করেন ধান জাত উদ্ভাবনের কাজ।
এ বিষয়ে ‘বারসিক’-এর কৃষিবিদ পার্থ সারথী পাল বলেন, ‘চারুলতা ধান সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি জাত। তাঁর উদ্ভাবন সত্যিই বিস্ময়কর। কিন্তু আমাদের দেশে কৃষক পর্যায়ে এ ধরনের গবেষণার স্বীকৃতি দেওয়ার রেওয়াজ নেই। অথচ দিলীপ তরফদারের কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী হোসেন বলেন, দিলীপ তরফদার একজন দক্ষ কৃষক। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপজেলা প্রশাসন স্বাধীনতা সম্মাননা-২০১৬ দিয়েছে।

Disconnect