ফনেটিক ইউনিজয়
নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মৃত্যুঝুঁকিতে হাজারো শিক্ষার্থী
সুমন ভৌমিক, নোয়াখালী

নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দুটি ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে প্রতিনিয়তই হতাহতের আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ভবনগুলোর বেহালের কথা অবহিত করলেও সমস্যা সমাধানে গ্রহণ করেনি কোনো উদ্যোগ।
১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের দুটি ভবন রয়েছে। ভবন দুটির একটি তিনতলা ও একটি চারতলাবিশিষ্ট। শিক্ষক, ল্যাব ও প্রশাসনকি কার্যক্রমের জন্য আলাদা ভবন না থাকায় ভবন দুটিতে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে যৌথভাবে। পরীক্ষার জন্য আলাদা পরীক্ষার হল না থাকায় পরীক্ষাও নেওয়া হয় ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দুটিতে। ভবন দুটির প্রতি তলার দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভয়ে মনোযোগ থাকে না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। কলেজে বর্তমানে এইচএসসি, ডিগ্রি (পাস) ও তিনটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে সাড়ে তিন হাজার ছাত্রী রয়েছেন। শিক্ষক রয়েছেন ৩৭ জন, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৪৮ জন। কলেজের ভেতরে দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। সেখানে আড়াই শ ছাত্রী থাকছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অতি পুরোনো ভবন হওয়ায় খসে পড়া পলেস্তারার ভেতরের রডগুলোও বের হয়ে গেছে। একই অবস্থা শিক্ষক মিলনায়তন, ছাত্রী মিলনায়তন, একাডেমিক কক্ষ ও বিভিন্ন ল্যাবে। তবে ভয়ংকর অবস্থা ভবনগুলোর সিঁড়ির। প্রতিটি ভবনের জানালার কাচগুলো ভাঙা। ভবনগুলোর একটি জানালায় পুরো গ্লাস নেই।
বিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষক বলেন, ভবনগুলো এতই জীর্ণ যে গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ভয় লেগে যায়। সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল থেকে পলেস্তারা খসে পড়া জায়গাগুলোয় সংস্কার করানোর জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের মতে, এভাবে নামমাত্র সংস্কারে কিছুই হবে না। ভবনগুলোর কিছুই নেই, সেখানে শুধু সংস্কার করলেই সমাধান হবে না।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক আখতারী বেগম বলেন, ভবন দুটির জীর্ণদশার বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অসংখ্যবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে যেসব স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে, সেগুলোর সংস্কার হচ্ছে। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপংকর খীসা বলেন, এটা বাৎসরিক বরাদ্দের আওতায় কিছু কাজ জরুরি ভিত্তিতে করা হচ্ছে। কলেজটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

Disconnect