ফনেটিক ইউনিজয়
৩ ডিসেম্বর ছিল ঠাকুরগাঁও হানাদারমুক্ত দিবস
আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও

গত ৩ ডিসেম্বর ছিল ঠাকুরগাঁও হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এ দিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ লড়াই আর মুক্তিকামী জনগণের দুর্বার প্রতিরোধে পতন হয় পাকিস্তানি বাহিনীর। বিজয় ছিনিয়ে আনতে ১০ হাজার নারী-পুরুষকে প্রাণ দিতে হয়। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন দুই হাজার মা-বোন।
ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন পাকিস্তানি বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার খাদেমুল বাশার। সমগ্র সেক্টরে ১ হাজার ১২০টির মতো গেরিলা বেইস গড়ে তোলা হয়। ৮ মের আগ পর্যন্ত সুবেদার কাজিম উদ্দিনের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ মে ক্যাপ্টেন নজরুল, কাজিম উদ্দিনের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে স্কোয়াড্রন সদরুদ্দিন ও ১৭ জুলাই ক্যাপ্টেন শাহারিয়া সাব-সেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাক সেনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালির ওপর। তাদের প্রতিরোধ করতে সারা দেশসহ ঠাকুরগাঁওবাসীও গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন। ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁওয়ে পাক বাহিনীর হাতে প্রথম শহীদ হন রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী। পরদিন ২৮ মার্চ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি উচ্চারণ করায় শিশু নরেশ চৌহানকে গুলি করে হত্যা করে পাক বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় সংসদ সদস্য ফজলুল করিমের নির্দেশে ১০টি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করা হয়। পাকিস্তানি বাহিনীকে ঠাকুরগাঁওয়ে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য ২০টি জায়গা নির্ধারণ করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।
নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক অভিযান চালায়। ২১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর থানা অঞ্চলে। এ যুদ্ধে বেশির ভাগ ফলাফল মুক্তি বাহিনীর অনুকূলে আসে।
২ ডিসেম্বর সারা রাত প্রচ- গোলাগুলির পর শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে। ৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও। ওই রাতেই মুক্তি বাহিনী ও সর্বস্তরের জনগণ মিছিলসহ ঠাকুরগাঁও শহরে প্রবেশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয় এবং লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে বিজয় উল্লাস করতে থাকে সর্বস্তরের মানুষ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্টু দাস বলেন, রক্তের বিনিময়ে পাক বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত করা হয় ঠাকুরগাঁও জেলা। কিন্তু যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাই সরকার দ্রুত এসব রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
জাটিভাঙ্গা এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী নির্মলা রানী বলেন, শহীদদের বিধবা স্ত্রীদের এখন পর্যন্ত বিধবা ভাতা ও পুনর্বাসন করা হয়নি। ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল আওয়াল বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ ৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবসকে মর্যাদা দিয়ে পালন করে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের স্ত্রীকে বিধবা ভাতা দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুত তাঁদের বিধবা ভাতা দেওয়া হবে।

Disconnect