ফনেটিক ইউনিজয়
মেধাবী মিনারার জীবনযুদ্ধ
ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম

চিলমারীর শারীরিক প্রতিবন্ধী মিনারা খাতুন জন্মের কিছুদিন পরে মাকে হারান। বাবা বিয়ে করেন শ্যালিকাকে। অভাবের সংসার। জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাতের কবজি বাঁকা। দুই হাতের আঙুল নেই। তবু প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে কাঁচকোল খামার সখিনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে অনুষ্ঠিত জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সে চিলমারী উপজেলার কাঁচকোল দক্ষিণ বাঁধ এলাকার দিনমজুর রফিকুল  ইসলাম ও মৃত মর্জিনা বেগমের মেয়ে। মিনার কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতা। দুই বোনের মধ্যে মিনারা ছোট। নানা বাধার মধ্যেও দুই হাতের কবজির সাহায্যে কলম ধরে সে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে কবজির সাহায্যে তিনি সাংসারিক বিভিন্ন কাজে বাবা ও সৎমাকে সহায়তা করছেন।
ছোটবেলা থেকে তাঁর পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে বাবা, মা তাঁকে স্থানীয় কেডি ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। তিনি পড়তে পারলেও লিখতে পারতেন না। তারপরও মনোবল হারাননি কখনো। অদম্য সাহসের সঙ্গে বড় বোন কনার সহায়তায় বাড়িতে বসে দুই হাতের কবজির সাহায্যে কলম জড়িয়ে ধরে লিখতে শুরু করেন তিনি। এভাবেই তিনি পিএসসি পাস করে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা থেকে তিনি উপবৃত্তি পান, তা দিয়েই চলে তাঁর লেখাপড়ার খরচ।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আইয়ুব আলী আকন্দ বলেন, ‘মিনারা ছাত্রী হিসেবে ভালো। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সব দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।’

Disconnect