ফনেটিক ইউনিজয়
অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরিত ফেনী বিসিক
শাহাদাত হোসেন তৌহিদ, ফেনী

অবকাঠামোগত সমস্যা ও নানা জটিলতায় জর্জরিত ফেনী বিসিক শিল্প এলাকা। স্থবির হয়ে আছে নগরীর শিল্প এলাকার অনেকগুলো উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-সংলগ্ন ফেনী পৌরসভা চাড়িপুর এলাকায় ১৯৬২ সালে ২৫ দশমিক ৪ একর জায়গার ওপর বিসিক শিল্পনগরী গড়ে ওঠে। ৫৫ বছরের পুরোনো এ শিল্পনগরী ১৪২টি প্লটে একাধিক ইউনিট নিয়ে গড়ে ওঠে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা। বর্তমানে এখানে ৩ হাজার ৪০০ জন নারী-পুরুষ কর্মরত রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেনীর একমাত্র শিল্প এলাকার সড়কটি সংস্কারের অভাবে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শিল্পনগরীর ভেতরে যে ছয়টি সড়ক রয়েছে, তার অবস্থা করুণ। ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার নেই কোনো ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। শিল্পনগরীর ভেতরে পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। দু-একটি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে গভীর নলকূল বসিয়ে কোনো রকমে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। গ্যাসের লাইন থাকলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এসবের মধ্যে আবার ঘন ঘন লোডশেডিং তো রয়েছেই। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে ও দুর্বল পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে।
বিসিকের মহাব্যবস্থাপক বলেন, বর্তমান শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ৪৫টি। এর মধ্যে উৎপাদনরত রয়েছে ৩৭টি আর উৎপাদনযোগ্য শিল্প ইউনিট রয়েছে ৩টি আর রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্প রয়েছে ৫টি। এর মধ্যে ৩৭টি চালু ইউনিট ছাড়া বাকিগুলো বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর ও সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের অভাব এবং হস্তান্তর জটিলতা, মালিকানার জটিলতাসহ নানা কারণে বছরের পর বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। চালু কারখানাগুলো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। যা এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে চিহ্নিত।
এ বিষয়ে কয়েকজন শিল্পকারখানার নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্ধ কারখানাগুলো চালু করতে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ থাকলেও হস্তান্তর ও আইনি জটিলতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এ অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আইনুল কবির শামীম সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, যাঁরা প্লট বরাদ্দ নিয়েও কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেননি, তাঁদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুন উদোক্তাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক।

Disconnect