ফনেটিক ইউনিজয়
এক বছরেও চবির দিয়াজ হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটিত হয়নি
ইমরান সোহেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীকে কী কারণে ও কারা খুন করেছে, দীর্ঘ এক বছরের তদন্তে বের করতে পারেনি পুলিশ। ধরতে পারেনি একজন আসামিকেও। দিয়াজের পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় নিজের বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন বাসায় দিয়াজ ছাড়া পরিবারের আর কেউ ছিলেন না। ৯৫ কোটি টাকার দরপত্রের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থগিত কমিটির ছাত্রলীগের সভাপতির অনুসারী নেতা-কর্মীরা ওই হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। লাশ উদ্ধারের তিন দিন পর ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। অন্য আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু, সহসভাপতি আবদুল মালেক, মনসুর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তোরাব, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরমান, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম, আপ্যায়ন সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদস্য আরিফুল হক এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জামশেদুল আলম চৌধুরী।
দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বলেন, ‘কোথায়, কার কাছে গেলে বিচার পাব জানি না। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছি। খুনি যে-ই হোক, তাঁর বিচার যেন হয়, সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তিনি।’
বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, কী কারণে এবং কারা দিয়াজকে খুন করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ ধরছে না, এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখলে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।’
দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয় ২১ নভেম্বর। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে, এমন আলামত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মেলেনি। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবারসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ। পরে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর দিয়াজের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাস রোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
গত ২৭ নভেম্বর দিয়াজের মা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বর ও শহীদ মিনার এলাকায় দুই দফায় অনশন করেন। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আগে দিয়াজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

Disconnect