ফনেটিক ইউনিজয়
অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন হুমকির মুখে প্রকৃতি
উসিথোয়াই মারমা, বান্দরবান

নিস্তব্ধ পাহাড়ে ভাঙনের শব্দ। কাছে এগিয়ে যেতেই জনা বিশেক শ্রমিক। কারও প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। হাতুড়ি আর শাবল দিয়ে ভাঙা হচ্ছে বিশাল আকৃতির পাথর। পাশে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে ভাঙা পাথরগুলো। এরপর পাহাড় কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হবে বাইরে। এমন দৃশ্য নভেম্বরের মাঝামঝি রুমা উপজেলার রুমা খালের বগামুখ ঝিড়িতে।
প্রতিবছর শীত মৌসুম এলে এভাবেই অবৈধ পাথর উত্তোলনের হিড়িক পড়ে যায় বান্দরবানে। এবারও নির্বিচারে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে রুমা উপজেলায়। শ্রমিকেরা বলছেন, রুমা খালের বিভিন্ন ঝিরি-ঝরনা, ছড়া থেকে তাঁরা এক সপ্তাহ ধরে পাথর তুলছেন। মাটি খুঁড়ে পাথর তুলতে আনা হয়েছে বিভিন্ন সরঞ্জাম। এর মধ্যে দেড় হাজার ঘনফুট পাথর উত্তোলন করে ফেলেছেন তাঁরা।
২০ জন শ্রমিক ৫ জন করে চারটি ভাগে পাথর তুলছেন। হাসান নামের এক শ্রমিক জানান, দিনমজুর করে ৪০০ টাকার বেশি পেতেন না। কিন্তু পাথর উত্তোলনের কাজে দৈনিক ৬০০ টাকা করে পান তিনি। মূলত বাজার কমিটির সভাপতি ও সোনা ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ধরের অধীনে পাথরগুলো তোলা হচ্ছে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উজ্জ্বল ধর পাথর উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পাথর উত্তোলন তিনি একা করছেন না। এ কাজে আরও কয়েকজন জড়িত আছে। ওই এলাকার বাসিন্দা জনি লুসাই, লুপ্রু মারমাসহ পাথরগুলো উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জনি লুসাই ও লুপ্রু মারমা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মেমং মারমা অভিযোগ করে বলেন, কারবারি (গ্রামপ্রধান) ও হেডম্যান থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। এভাবে পাথর উত্তোলন করতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের পানি-সংকটে ভুগতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায় শুধু রুমা খালই নয়, আশপাশের আরও বিভিন্ন এলাকায়ও থেমে নেই পাথর উত্তোলন। ক্যোওয়াইবওয়া পাড়া থেকে পুনর্বাসন, ভাগ্যমনি ও বগামুখ পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতার অভাবে এবং দুর্গম এলাকা হওয়ায় নিয়মিত অভিযান চালাতে সমস্যা হয়। এরপরও অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Disconnect