ফনেটিক ইউনিজয়
এইচআইভি আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে খুলনা
জিয়াউস সাদাত, খুলনা

দক্ষিণাঞ্চলের আটটি জেলায় এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। ভারত থেকে ফিরে আসা দিনমজুর ও ভাসমান পতিতাদের রক্ত পরীক্ষার পর ৮০ শতাংশ এইচআইভি ভাইরাস বহন করছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। খুলনায় এইচআইভি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মোট আক্রান্তের মধ্যে ৪০ শতাংশ খুলনায়। গত এক বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২ জন মারা গেছে। আর ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৫৯।
‘মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক জরিপের তথ্যমতে, এইচআইভি আক্রান্ত জেলাগুলো হচ্ছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গোপালগঞ্জ। এসব জেলায় ৩১৯ জন এইচআইভি জীবাণু বহন করছে। তার মধ্যে শুধু খুলনা জেলায় ৮৪ জন।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী রেহেনা বেগম জানান, দিনমজুর হিসেবে কর্মরত নারীরা ভারতে অবস্থানকালীন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। তা ছাড়া ভাসমান যৌনকর্মী, তৃতীয় লিঙ্গ ও সমকামীরাও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং বিভিন্ন বেসরকারি সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে।
ছিন্নমূল মানবকল্যাণ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, মহানগরীর বয়রা মোড়, পাবলা, নিউমার্কেট, খালিশপুর, দৌলতপুর, রূপসা, হাদিস পার্ক, কেডিএ বাইপাস সড়ক, নতুন রাস্তার মোড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতি মাসে ৬০ জনের রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। শুধু খুলনা মহানগরী এলাকায় গত বছর ১৮ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, মাদকসেবীদের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, আক্রান্ত মায়েদের দুধ, অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণের ফলে এইচআইভি বহনকারীর সংখ্যা বাড়ছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক মো. রওশন আনোয়ার বলেন, স্থল ও সমুদ্রবন্দর এলাকা এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ। বিদেশি পর্যটক ও নাবিকদের অবাধ মেলামেশার কারণে এইচআইভি জীবাণু ছড়িয়েছে। এইচআইভি প্রতিরোধে দক্ষিণাঞ্চলের যৌনপল্লিগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Disconnect