ফনেটিক ইউনিজয়
চাঁদপুরে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বহু যুবক
আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর

চাঁদপুরে অনেক নিচু জমি বছরের অর্ধেক সময় পানিতে তলিয়ে থাকে। ফলে এসব জমিতে ওই সময়টাতে চাষিরা ফসল চাষ করতে পারেন না। আর এসব প্লাবনভূমিতে মাচ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন জেলার বহু যুবক। বর্তমানে অর্ধশতাধিক প্লাবনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও প্লাবনভূমিতে মাছচাষিদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ লাভবান হওয়ায় এখন মাছ চাষে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে তুলনামুলক নিচু এলাকার জমিতে ফসল না হওয়ায় মাছ চাষের জন্য ইজারা দিয়ে আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন জমির মালিকেরা।
বর্তমানে কয়েকটি প্লাবনভূমিতে মাছচাষে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি লাখ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখছেন ব্যবসায়ীরা। মতলবের মাছচাষি ইয়াকুব মজুমদার, মিজান ঢালী বলেন, ‘প্লাবনভূমিতে মাছ করে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি। এখানে বিনোয়োগের পর যে অর্থ লাভ হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট।’ তবে মাছ চাষে সরকারি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ আরও দেওয়া হলে মাছচাষিরা উপকৃত হবেন বলে তাঁরা জানান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই এ জেলার প্লাবনভূমিগুলোকে শনাক্ত করেছি। আবার এসব প্লাবনভূমির অনেকগুলোকেই আমরা মাছ চাষের উপযোগী করে গড়ে তুলেছি। সরকারিভাবে মাছচাষিদের এসব ভূমিতে মাছচাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সরকারি প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্লাবনভূমিতে মাছ চাষের ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশর্^বর্তী জেলাগুলোতেও মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে মাছচাষিদের পাশাপাশি চাঁদপুর জেলাও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে। বর্তমানে চাঁদপুরে ৫১টি প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ হচ্ছে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে কয়েক শ মানুষ। প্লাবনভূমিতে মাছ চাষ লাভবান হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও অনেকেই এ ব্যবসায় আগ্রহী হবেন বলে মনে করছে সচেতন মানুষ।

Disconnect