ফনেটিক ইউনিজয়
একতা প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র
প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আমিরুলের প্রচেষ্টা
আব্দুল আওয়াল, ঠাকুরগাঁও

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, তারাও সমাজের সম্পদ হতে পারে। ২০০৮ সালে নানা রকমের বাধা অতিক্রম করে আমিরুল ইসলাম জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে রায়পুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চুনিহাড়ি এলাকায় নিজ উদ্যোগে একতা প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সমাজের প্রতিবন্ধী শিশুদের মেধাবিকাশ করা ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। ১০ বছর ধরে তিনি এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৩৬৯ জন।
আমিরুল মনে করেন, একজন সাধারণ মানুষ যেভাবে দেশের সব স্তরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারছে, ঠিক তেমনি এই প্রতিবন্ধীরাও সেভাবে চলবে। যদি এই শিশুদের উপযোগী করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি, তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানো যায়, তাহলে তারা জীবনে অনেক ভালো কিছু করতে পারবে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের আশপাশের তিন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী শিশুরা এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। ৩৬৯ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে এখানে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ৮০ জন, বাক্‌প্রতিবন্ধী ৯৭ জন, শ্রবণপ্রতিবন্ধী ৪ জন, শারীরিক প্রতিবন্ধী ৭৯ জন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৩৬ জন, মানসিক প্রতিবন্ধী ১৪ জন, অটিজম ৫২ জন, সেরিব্রাল ৭ জন। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালক নিজ উদ্যোগে দুটি পিকআপ গাড়ি কিনে প্রতিবন্ধী শিশুদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন। পরিচালক নিজ উদ্যোগে সম্প্রতি প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসার জন্য একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করেছেন।
স্কুলের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী জিল্লুর রহমান জানায়, স্কুলে আসতে তার অনেক ভালো লাগে। কারণ এখানকার শিক্ষকেরা তাকে অনেক ভালোবাসেন। তাদের অনেক ভালোভাবে পড়াশোনা করান। তার স্বপ্ন সে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। আর এই স্বপ্ন দেখার মূল কারণ হচ্ছে একতা প্রতিবন্ধী স্কুল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল কলিম বলেন, ‘আমরা নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে এই স্কুলটি পরিচালনা করছি। দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত আমরা সরকারি কোনো বরাদ্দ পাইনি। আমরা মনে করি, ভালোভাবে এই স্কুলটি পরিচালনা করতে গেলে সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।’
স্কুলের শিক্ষক সৃষ্টি রানী রায় বলেন, ‘এখানকার অনেক শিক্ষার্থী চলাফেরা করতে পারে না, কথা বলতে পারে না, কিছু বোঝে না। তবু কষ্ট করে হলেও আমরা তাদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের কোনো বেতন নেই। নিজ খরচে স্কুলটি পরিচালনা করতে হচ্ছে।’
স্কুলের পরিচালক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে আমাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমাদের এখানে পুনর্বাসন কেন্দ্রে বেশি ছাত্রছাত্রী রাখার ব্যবস্থা নেই। আমাদের স্কুলের ছাত্রছাত্রী অনুযায়ী শ্রেণিকক্ষ, টেবিল-চেয়ার, স্কুলের সীমানাপ্রাচীর অর্থের অভাবে এখনো করতে পারছি না। প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদানের জন্য এখানে কোনো প্রজেক্টর ও কম্পিউটার নেই। পাচ্ছি না আমরা কোনো রকমের সরকারি সুযোগ-সুবিধা। শিশুদের চিকিৎসার জন্য আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকলেও ডাক্তার ও ওষুধের অভাবে শিশুদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।’

Disconnect