ফনেটিক ইউনিজয়
হবিগঞ্জের পাহাড়ে নজরকাড়া কমলা
মামুন চৌধুরী, হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের পাহাড়ের লাল মাটিতে গড়ে উঠেছে বিপুলসংখ্যক কমলা-বাগান। ব্যক্তি উদ্যোগে এসব বাগান করা হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে কমলার বাগানগুলো। এ মৌসুমে প্রচুর কমলা ধরছে। বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। আকারে বড়, আধা পাকা এসব কমলা সবার নজর কাড়ছে। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ারও আশা করছেন চাষিরা।
জানা যায়, সুঘ্রাণ, উজ্জ্বল রং আর সুমিষ্টি রসালো কমলা চাষ হচ্ছে হবিগঞ্জের পাহাড়-অধ্যুষিত নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায়। ব্যাপকভাবে এ ফলের চাষ হচ্ছে। আরও ব্যাপকভাবে চাষ হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরে এ ফল রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
চাষিরা জানান, হবিগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগী। এখানকার পাহাড়ে রয়েছে প্রচুর পতিত জমি। এসব জমিতে কমলা চাষ করলে আর বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না। বরং বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। চাষিদের পাশাপাশি দেশও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
প্রায় ১৩ বছর আগে জেলার চুনারুঘাট, বাহুবল ও মাধবপুরের পাহাড়ে কমলা চাষ বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বাহুবল উপজেলার খাসিয়া-অধ্যুষিত আলীয়াছড়া (গুলবাহার) খাসিয়া পুঞ্জিতে ১২ বছর আগে ৫ একর জমির বাগানে ১ হাজার ২০০ কমলার চারা রোপণ করেন পুঞ্জির মন্ত্রী উটিয়ান টংপেয়ার। এরপর থেকে এ পুঞ্জিতে মেরিন্ডা ও খাসিয়া প্রজাতির কমলার আবাদ হচ্ছে। খাসিয়া প্রজাতির কমলা আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত সুমিষ্ট। দেড় শতাধিক একর জমিতে কমলার আবাদ করা হয়। ফলনও ভালো হয়। এতে চাষিদের মাঝে বিপুল উৎসাহ দেখা দেয়। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও চাষিরা কমলা চাষ অব্যাহত রাখেন। তাঁরা নিজ উদ্যোগে এ ফল চাষ করছেন। সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হলে তাঁরা আরও এগিয়ে যেতে পারতেন।

Disconnect