ফনেটিক ইউনিজয়
আলোকিত হয়ে উঠেছে দুর্গম থানচি
উসিথোয়াই মারমা, বান্দরবান

অবশেষে বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়ার পর আলোকিত হয়ে উঠেছে বান্দরবানে থানচি উপজেলা। বদলে যাচ্ছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা। একসময় জেলার সবচেয়ে দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচতি ছিল থানচি। বিদ্যুৎ না থাকায় একটি সামান্য কাগজের ফটোকপি করতে চলে আসতে হতো ৮৫ কিলোমিটার দূরে জেলা শহরে। ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। কিন্তু গত বছর বছর মার্চে বিদ্যুৎ-সংযোগ পাওয়ার পর আনন্দের শেষ নেই এলাকাবাসীর।
রাত ৯টায় বাসস্টেশন এলাকায় হেঁটে যেতেই শিশুদের পড়াশোনার শব্দ। দোকানের লাগোয়া একটি ঘরে এত রাতেও পড়াশোনায় ব্যস্ত দুই ভাইবোন। তাদের অভিভাবক সিংনুমা মারমা জানান, আগে মোমবাতি ও হারিকেন দিয়ে পড়াশোশুনা করতে হতো বাচ্চাদের। স্বল্প আলোয় অনেকক্ষণ ধরে পড়াশোনায় ব্যস্ত রাখা যেত না তাদের। আর এখন বিদ্যুতের আলোয় রাত জেগেও পড়াশোনা করছে শিশুরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, থানচি এলাকায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানা হয়েছে সম্পূর্ণ দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দিয়ে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে গাছপালা ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী চিংহ্লামং মারমা বলেন, থানচি উপজেলা বান্দরবান শহর থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে। সব দাপ্তরিক কাজ শহর এলাকা থেকে গিয়ে করতে হয়। বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও দাপ্তরিক কাজের জন্য ওই এলাকায় একটি আবাসিক প্রকৌশলী দপ্তর স্থাপনের প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের মতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চিম্বুক পাহাড়ের চূড়া থেকে থানচি উপজেলায় ৫৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এরপর আরও ২৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা।

Disconnect