ফনেটিক ইউনিজয়
বগুড়ায় হয়ে গেল দইমেলা
এইচ আলিম, বগুড়া

ব্যতিক্রমধর্মী বগুড়ায় হয়ে গেল দইয়ের মেলা। মাঘী পূর্ণিমা উৎসব উপলক্ষে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ভবানীপুর উচ্চবিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও শাঁখারি পুকুরপাড়ে এই দইয়ের মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। হরেক রকম স্বাদের দই নিয়ে এ মেলায় ৮টি উপজেলার দই, মিষ্টির ব্যবসায়ীরা তাঁদের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। আর এই মেলাকে ঘিরে বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৩০ গ্রামের নারী-পুরুষ, মেয়ে-জামাইদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্বজনরা।
৮টি উপজেলার সীমান্ত শেষ হয়েছে শেরপুর উপজেলায় এসে। এই ৮টি উপজেলার মানুষ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন। ৮টি উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার সনাতন ধর্মের মানুষও অংশ নিয়ে থাকে। মাঘী পূর্ণিমা উৎসবে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। এই সমাগমকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে সেখানে দইয়ের বেচাকেনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সেটি দইমেলা হিসেবে দই বিক্রেতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। এবার এই দইমেলা গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলায় দইয়ের সঙ্গে মিষ্টি, খই, চিড়া, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, কদমা বেচাকেনা হয়। মেলায় কম মিষ্টির দই, টক দই, মিষ্টিহীন দই, সাদা দই, মিষ্টি দই, শাহী দই, মেজবানি দই, জামাই সোহাগী দইয়ের সঙ্গে ঘোল দইয়েরও নাম শোনা যায়।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর মন্দির পরিচালনা ও সংস্কার কমিটির সভাপতি নিমাই ঘোষ জানান, মাঘী পূর্ণিমার পঞ্জিকা তিথি অনুযায়ী প্রতিবছর মা ভবানীপুর মন্দিরে মাঘী পূর্ণিমা উৎসবের আয়োজন করা হয়। যুগ যুগ আগে থেকেই এই ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন হয়ে আসছে। আর এই উৎসবে আসা অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এই অঞ্চলের ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করা হয়ে থাকে। কালক্রমে এটি ঘোষরা দই ও মিষ্টির মেলা হিসেবে বলে থাকে। বগুড়ার শেরপুর শহরের শ্যামল ঘোষ, সুজিত ঘোষ জানান, অন্তত ২০ বছর ধরে এই মেলায় দই বিক্রি করে আসছেন। তাঁরা ৪০০ হাঁড়ি দই বিক্রি করেছেন। সারা দিনে সব দই বিক্রি শেষ হয়ে যায়। আগে তিন দিন হলেও এখন মাঘী পূর্ণিমার দিন ও পরের দিন সকাল পর্যন্ত এই মেলা চলে।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ অতীত জীবনের পাপ মোচনসহ পুণ্যলাভের আশায় মন্দিরস্থলে সমবেত হন এবং পুকুরে পুণ্যস্নান করেন।

Disconnect