ফনেটিক ইউনিজয়
নানা সমস্যায় ফেনীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ
শাহাদাত হোসেন, ফেনী
ফেনী সরকারি কলেজ
----

ফেনীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। সমস্যার দীর্ঘসূত্রতার কারণে একদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো তার ঐতিহ্য হারাচ্ছে, অন্যদিকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফেনী সরকারি কলেজ, সোনাগাজী সরকারি কলেজ, পরশুরাম সরকারি কলেজ, ফেনী পাইলট, ফেনী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ফেনী আলিয়া মাদরাসা একসময়ে দেশগর্ব জ্ঞানী-গুণীর পাঠশালা হলেও আজ এসব প্রতিষ্ঠান নানা সমস্যার জর্জরিত।

ফেনী সরকারি কলেজ
এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত। এই কলেজ থেকে দেশবরেণ্য অনেক জ্ঞানী-গুণী শিক্ষা গ্রহণ করে জাতীয় জীবনে সমৃদ্ধির সোপান রচনা করেছেন। বর্তমানে কলেজটিতে ১৫২ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৬৪ জন।
বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৩৪৪ জন। অনার্স পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়ে ১২ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ বিষয়ে ৪ জনের অধিক শিক্ষক নেই এ প্রতিষ্ঠানে। ফলে এখানে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে এখানে শিক্ষার্থী অনুযায়ী নেই কোনো শ্রেণিকক্ষ।  কলেজটিতে নেই মানসম্মত লাইব্রেরি ও গবেষণাধর্মী বই। একমাত্র ছাত্রাবাসটিতে মাত্র ১০০ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে, সেটিও কলেজ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে।

পরশুরাম সরকারি ডিগ্রি কলেজ
শিক্ষক-সংকট নিয়ে চলছে ফেনীর ঐতিহ্যবাহী পরশুরাম সরকারি ডিগ্রি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ ২৩টি পদের মধ্যে ১৬টি পদই এখানে শূন্য। এর মধ্যে ইংরেজিসহ গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিষয়ে নেই কোনো শিক্ষক। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজটিতে উপাধ্যক্ষসহ বর্তমানে মাত্র সাতজন শিক্ষক কর্মরত।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু কাওছার মোহাম্মদ হারেছ জানান, শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি কয়েকবার শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কাজ হয়নি।

ফেনী আলিয়া মাদরাসা
ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক-সংকট ও পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন না থাকার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। একটি প্রশাসনিক ভবন ও তিনটি একাডেমিক ভবন নিয়ে চলছে মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন থেকে জেলার সেরা দ্বীনি প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ভবন-সংকট সমাধান করা যাচ্ছে না। শিক্ষক-সংকট কাটাতে ৯ জন খ-কালীন শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়
ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক ও একাডেমিক ভবন-সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষায় জেলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানে ৫২ শিক্ষকের বিপরীতে ২৪ জন দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
এখানে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই। ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারেনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের ভবন-সংকট ও শিক্ষক-সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ফেনী বালিকা বিদ্যালয়
জেলায় নারী শিক্ষায় একমাত্র প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ফেনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে প্রভাতী ও দিবা শাখায় ১ হাজার ৮০০-এর বেশি ছাত্রী পড়াশোনা করছে।
দিবা শাখায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষক-সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রভাতী শাখায় ২০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৬ জন দিয়ে চালানো হচ্ছে এ শাখার শ্রেণি কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নাথ বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে একটি ভবন তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Disconnect