ফনেটিক ইউনিজয়
সাশ্রয়ী মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার
শাহীন সরদার, বাকৃবি (ময়মনসিংহ)

ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক না পাওয়া এবং অধিক মজুরির কারণে ধান ও গমের উৎপাদন ব্যয় বেশি হয়ে পড়ে। অনেক সময় কৃষক সেই উৎপাদন ব্যয়টাও ঠিকমতো উঠাতে পারেন না। এসব সমস্যা থেকে কীভাবে উত্তরণ করা যায় এবং কৃষিপ্রধান এ দেশের কৃষিতে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, সেজন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগ।
অ্যাপ্রোপ্রিয়েট স্কেল ম্যাকানাইজেশন হাব (আসমি) নামের প্রকল্পটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল আলম বলেন, প্রকল্পটি শুরু হয় ২০১৬ সালে। প্রথম দুই বছরে কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে মেশিনটি চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএইড) আর্থিক সহযোগিতায় চলমান প্রকল্পটি কৃষকের ঘরে ঘরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কৃষকের মাঠে কৃষিবান্ধব সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়াই প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য।  
প্রকল্পটির প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী জানান, বর্তমানে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় মৌসুমের সময় শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দেয়। আর এ মেশিনের মাধ্যমে কম শ্রমিক দিয়ে দ্রুত ও কম খরচে একসঙ্গে ফসল কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই করা যায়। ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ কম পড়ে। প্রচলিত পদ্ধতিতে শ্রমিক দিয়ে কাটা, ঝাড়াই বাবদ হেক্টরপ্রতি প্রায় ২১ হাজার টাকা খরচ হয়। অন্যদিকে এ যন্ত্র ব্যবহারে খরচ হয় মাত্র সাড়ে ৯ হাজার টাকা।
এসিআইয়ের যেকোনো বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কৃষক সহজেই এটি কিনতে পারবেন। বর্তমানে এর বাজার মূল্য ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে থাকে। প্রকল্পটির সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা।

Disconnect