ফনেটিক ইউনিজয়
বিলগুলো শুকিয়ে ফসলি জমিতে পরিণত
সনম রহমান, পাবনা

উত্তরাঞ্চলে অধিকাংশ বিল শুকিয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। বিলের বুকে ফলছে নানা রকম ফসল। বছরের পর বছর পলি জমে ক্রমাগত সংস্কুচিত হয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি বিল। এতে বিলনির্ভর বোরোসহ অন্যান্য ফসলের জমিতে সেচসংকট দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ষাটের দশক থেকে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে ফসলি জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে। এ কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পাঁচ-সাত মিটার নিচে নেমে গেছে। নলকূপে পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। সেই সঙ্গে বেড়েছে আর্সেনিকের মাত্রা। আবার ১৯৭৪ সালের পর থেকে অভিন্ন নদ-নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ভারত। এছাড়া বছরের পর বছর নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশায়ে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেচ কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, একসময় এসব বিলে সারা বছরই পানি থাকত। আর এখন বছরের নয় মাসই পানি থাকে না। শুকিয়ে যাওয়া বিলের জমিতে নানা প্রকার ফসল আবাদ হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের ১৮২টি বিলের মধ্যে বেশির ভাগ বিলে ফসল আবাদ হচ্ছে। অন্য বিলগুলোয় বছরের আট মাসের বেশি সময় পানি থাকে না। দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা জেলার বিলগুলোর একই অবস্থা। চলনবিলে ১ হাজার ৮৮ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে বেঁচে আছে মাত্র ৩৬৮ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ৮৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সারা বছর পানি থাকে। পানি সরে গেলে বিলগুলো ফসলি জমিতে রূপান্তর হয়।
বছরের পর বছর বিলগুলোয় পলি জমছে। গভীরতা হ্রাস পাচ্ছে। পরিণত হচ্ছে নিচু সমতল ভূমিতে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব ও আশির দশকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বড়ালের (পদ্মা) উৎসমুখে স্লুইস গেট নির্মাণের ফলে চলনবিলের বিভিন্ন নদী, বিল, জলাশয় ও খাঁড়িগুলোয় পলি জমে ক্রমে ভরাট হয়ে গেছে। তাছাড়া বিলের মাঝ দিয়ে যথেচ্ছভাবে সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, ভূমি দখল করে বসতি ও দোকাপাট স্থাপন করায় নদী, বিল ও খাড়িগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

Disconnect