ফনেটিক ইউনিজয়
বিভক্ত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা
হাফিজুর রহমান, জাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।
অন্যদিকে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের পক্ষে কাজ করে আসছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আরেক অংশ। বাংলাদেশের প্রথম নারী উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পুনর্নিয়াগ দেয়ার পর থেকেই ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের  চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে’র ব্যানারে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে নানা প্রকার কর্মসূচি দিয়ে আসছে। এজন্য তারা রাষ্ট্রপতির আদেশকে তোয়াক্কা না করে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে বিভিন্ন রকম কর্মসূচি পালন করেছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল জোট’-এর ব্যানারে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একাংশ। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধনে বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন দাবি করা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অন্য পক্ষটি গত ১৮ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক পদে থাকা দুই উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনসহ নানা অভিযোগ তুলেছে। এ পক্ষের অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো দিন কাউকে হুমকি দিই না, ভয় প্রদর্শনও করি না। আমি মনে করি, আমার সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এটি খুবই অন্যায় এবং আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি’।
এর মধ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন। মূলত উপাচার্য পদকে কেন্দ্র করেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে এ বিভাজন।

Disconnect