ফনেটিক ইউনিজয়
ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে শালবন
ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহৎ বনভূমি ঐহিত্যবাহী মধুপুর শালবন এখন প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহের অংশে এ বনাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ গজারি গাছ এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সংরক্ষিত এলাকায় সামান্য কিছু গাছ টিকে থাকলেও বেশির ভাগ অংশই প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গজারি গাছশূন্য হয়ে পড়েছে। টিকে থাকা শেষ গাছগুলোও নির্বিচারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোর চক্র। বেদখলের কবলে পড়ে ধূসর লাল মাটির বনভূমি রাতারাতি কলাবাগান বা অন্য ফসলি ভূমিতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বনের জায়গা দখল করে ব্যক্তি উদ্যোগে মাছের পুকুর, কৃষি খামার গড়ে তোলা হচ্ছে। জনবল সংকটে অনেকটাই নিরুপায় হয়ে বসে আছেন বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের লোকজন। এ সুযোগে গাছ চোরেরা সৃজিত বন ও প্রাকৃতিক বনের গজারি গাছ কেটে সাবাড় করছে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ৪৫ হাজার একর জমির বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে মধুপুর বনাঞ্চল। সারা দেশের হিসেিব মধুপুরগড়ের মোট বিস্তার ৪ হাজার ২৪৪ বর্গকিলোমিটার। ৫০ বছর আগেও মধুপুরগড় ব্যাপকভাবে বনাবৃত ছিল। বনের প্রধান আকর্ষণ ছিল শাল বা গজারি গাছ। ফলে এ বনের নামকরণ হয় শালবন। অবৈধভাবে ব্যাপক হারে শাল গাছ কাটার ফলে বর্তমানে প্রাকৃতিক বনটির আয়তন এসে ঠেকেছে ১০ হাজার ৫০০ একরে। বাকি অংশ দখল করে অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০ বছর আগেও মধুপুর বনে প্রকা- শাল ও গজারি গাছের দেখা মিলত অহরহ। কিন্তু বর্তমানে তা কেবলই ইতিহাস।
মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজুল মতিন বলেন, বিশাল বনে মাত্র  দুজন বনরক্ষক দিয়ে বন টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। চোরদের দেশীয় অস্ত্রের কাছে বনরক্ষকরা অসহায়। এজন্য দরকার বিশাল বাহিনী। তবেই বন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এম হাসান বলেন, বিশাল বনের চারদিকেই চোরের উপদ্রব। অল্প কয়েকজন বনরক্ষক দিয়ে বন রক্ষা করা কঠিন বিষয়। এর পরও প্রায়ই চোরদের ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় তাদের নামে মামলা দেয়া হচ্ছে।

Disconnect