ফনেটিক ইউনিজয়
শুরু হয়েছে পাহাড়ে ‘বৈসাবি উৎসব’
উসিথোয়াই মারমা, বান্দরবান
তঞ্চঙ্গ্যাদের নববর্ষ উৎসব ‘বিজু’ উপলক্ষে ঘিলা খেলা
----

‘বৈসাবি’ পাহাড়ে বর্ষবরণের একটি উৎসবের নাম। ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, মারমা ভাষায় সাংগ্রাইং ও চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বিজুকে একসাথে বলা হয় বৈসাবি উৎসব।
১২ এপ্রিল শুরু হয়েছে পাহাড়ে এ ‘বৈসাবি উৎসব’। এ উৎসবের মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে  নেয় এ অঞ্চলের মানুষ। পাহাড়ে ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আয়োজন করে নানা রকম কর্মসূচি। রঙ-বেরঙের পোশাকে শিশু-কিশোররা ঘুরে বেড়ায় এবাড়ি-ওবাড়িতে। বর্ষবরণ উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত অনুষ্ঠান মারমাদের পানি উৎসব। এদিন পানি খেলার পাশাপাশি গান-নাচে পরস্পরকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে। ঠিক এভাবে পুরনোকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার মধ্য দিয়ে পাহাড়ের মানুষ মেতে ওঠে এ উৎসবে।
চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় ফুলবিজু দিয়ে শুরু করবে বৈসাবি। এদিন ভোরে বন-ঝোপঝাড় থেকে বুনো ফুল সংগ্রহ করে নদীতে ভাসিয়ে দেবে শিশু, তরুণ-তরুণীরা। এ উপলক্ষে বান্দরবান শহরে বালাঘাটা এলাকায় বিলকিছ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে তঞ্চঙ্গ্যাদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্ষবরণ উৎসবকে ‘সাংক্রান’ নামে পালন করে ম্রো সম্প্রদায়রা। আয়োজক কমিটির সদস্য সিংপাত ম্রো বলেন, ১৪ এপ্রিল চিম্বুকে পোড়া বাংলা এলাকায় সাংক্রান উৎসবে ম্রোদের হারানো গান, পালাগান তুলে ধরা হবে।
এদিকে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে মারমাদের সাংগ্রাই উদযাপন কমিটি। সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কোকোচিং মারমা জানান, বর্ষবরণের উৎসব পালন করতে চারদিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তারা। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্র, বয়স্ক পূজা, পিঠা তৈরি উৎসব, বুদ্ধ পূজা, পানি খেলা, তৈলাক্ত বাঁশ আরোহণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়া বর্মি পঞ্জিকা অনুসরণ করে ১৩ এপ্রিল দিয়ে উৎসব শুরু করে খিয়াং ও চাক সম্প্রদায়ের মানুষ। তারাও ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলে ঘরদোর। পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় তারাও।

Disconnect