ফনেটিক ইউনিজয়
সংকটে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা
ইমরান হোসাইন, বরগুনা

ব্যাপক কর্মসংস্থান আর রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকলেও দিন-দিন কমে যাচ্ছে পাথরঘাটায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ। স্থায়ী শুঁটকিপল্লী, পুঁজি সংকট ও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় শুঁটকি তৈরিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ পল্লী। এখানে কাঁচা মাছ কীটনাশক ছাড়াই রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় শুঁটকি। অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এসব পল্লীতে প্রতি বছর বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০০ টন শুঁটকি হয়, যা দেশের চাহিদা পূরণ করে রফতানিও হয়। কিন্তু শুঁটকির সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ব্যবসায়ীর রয়েছে পুঁজি সংকট। পুঁজি বলতে তাদের রয়েছে এনজিওর লোন। এনজিওর লোন ও মহাজনদের উচ্চসুদ শোধ দিয়ে ব্যবসা চালানো তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনেও স্থায়ী শুঁটকিপল্লী গড়ে না ওঠায় হতাশ তারা।
এছাড়া শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কম পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে দিন দিন কমছে শুঁটকি তৈরি। তবে উপকূলে স্থায়ী শুঁটকিপল্লী নির্মাণ, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও পুঁজি সংকটের স্থায়ী সমাধানে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করলে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়বে, তেমনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শুঁটকির সঙ্গে জড়িত সহস্রাধিক পরিবারের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে। এমনটাই মনে করেন বিশিষ্টজনরা। পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম জানান, সম্ভাবনাময় এ শুঁটকি শিল্পকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ ও মানসম্পন্ন শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে আমাদের নজরদারি রয়েছে।

Disconnect