ফনেটিক ইউনিজয়
রোগী হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা
রহিম রেজা, ঝালকাঠি

ভুল চিকিৎসা করে রোগী হত্যা চেষ্টার মামলায় ঝালকাঠির রাজাপুর সোহাগ ক্লিনিকের মালিক ও দুজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঝালকাঠির একটি আদালত। ৩ মে বিকালে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট  মো. সেলিম রেজা একটি নালিশি মামলা আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেনÑ রাজাপুর সোহাগ ক্লিনিকের মালিক মো. আহসান হাবিব সোহাগ, ক্লিনিকের আরএমও ডা. মো. মহিউদ্দিন ও রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার পরিচয় দানকারী শিব শংকর।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি গ্রামের দিনমজুর হাদিস নকিবের বিধবা কন্যা নাসরিন বেগম (২৮) গত ৫ মার্চ পেটে ব্যথা নিয়ে রাজাপুর সোহাগ ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সোহাগ ক্লিনিকের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মহিউদ্দিন রোগীর অভিভাবকদের জানান, রোগীর অ্যাপেন্ডিক্স হয়েছে, অপারেশন করতে হবে। ওইদিন রাত ৮টায়  রোগীকে অপারেশন করেন ডা. মহিউদ্দিন ও স্বাস্থ্য সহকারী শিব শংকর। অপারেশনের পর জানা যায়, রোগীর পেটে বড় ধরনের টিউমার আছে। তারা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে পারেন না। বেগতিক অবস্থা বুঝে তাৎক্ষণিক তারা বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন ৬ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর চিকিৎসা করাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর তাকে পুনরায় সোহাগ ক্লিনিকে নেয়া হয়। সোহাগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য নাসরিনকে দু-তিনদিন সেখানে রেখে নামমাত্র চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। নাসরিনের বোন জান্নাতি একাধিকবার তার বোনের চিকিৎসার জন্য সোহাগ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা খারাপ ব্যবহার করেন। এ ব্যাপারে মৃত্যুপথযাত্রী নাসরিনের ছোট বোন জান্নাতি বেগম বাদী হয়ে ঝালকাঠির সিনিয়ির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন।
এ মামলার ঘটনার পর আহসান হাবিব সোহাগ আত্মগোপনে থাকায় তার মতামত পাওয়া যায়নি।

Disconnect